মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
✍ তপ্তকাঞ্চন নিত্যানন্দ দাস
১৩ জুলাই ২০২৬
বর্ষ: 2025  |  ইস্যু: ১ম সংখ্যা

কেউ যখন মহাত্মাদের উৎপীড়ন করে, তার আয়ু, সৌন্দর্য, যশ, ধর্ম, আশীর্বাদ এবং স্বর্গলোকে উন্নতি আদি সমস্ত মঙ্গল ও সর্ববিধ শুভ বিনষ্ট হয়ে যায়।

অপরাধীর অপরাধ বোধের জ্ঞান লোপ পেলে তাকে জ্ঞান দিলেও তা হৃদয়ঙ্গম করতে অসমর্থ হয় এবং সে সমাজের জন্য একজন মহাশত্রুতে পরিণত হয়। এরূপ অপরাধ যদি ভগবানের কোনো প্রিয় ভক্তের সাথে হয়, ভক্ত সেই অপরাধ ক্ষমা করলেও ভগবান নির্দিষ্ট সময়ে তার উপযুক্ত শাস্তি বিধান করে থাকেন।

 

 রহুগণ জড় ভরতকে তিরস্কার করে কি সত্যিই মারাত্মক অপরাধ করেছিলেন? কেননা তিনি জানতেন না, কে ছিলেন এই স্থূলকায় ব্যক্তিটি। রাজা রহুগণ কি কেবল তাৎক্ষণিক ক্রোধের বশবর্তী হয়ে জড় ভরতকে কড়া কথাগুলো বলেছিলেন, নাকি তাঁর মহৎ ব্যক্তিত্ব জেনেই এমন আচরণ করেছিলেন?

   হঠাৎ এরূপ জিজ্ঞাসায় আপনি একটু হতচকিত হলেন, তাইতো? কেননা, আপনি হওতো এমন ইতিহাসের সাথে পরিচিত নন। তাহলে শুনুন — সিন্ধু ও সৌবীরের রাজা মহারাজ রহুগণ একবার শিবিকায় (পালকি) করে কোথায়ও যাচ্ছিলেন। শিবিকা বহন করতে চারজন বাহকের দরকার হয়। কিন্তু একজন কম থাকায় তিনি পথে জড় ভরত নামে এক ব্যক্তিকে পথে দেখে তাকে তাঁর শিবিকা বহন করতে বাধ্য করেছিলেন। শিবিকা বহন করার সময়, যাতে তাঁর পায়ের তলায় পড়ে কোনো পিঁপড়েরও মৃত্যু না হয়, তাই জড়ভরত অতি সাবধানে পা ফেলছিলেন। এজন্য অন্য তিন জনের সাথে পা না মেলায় শিবিকা দুলছিল। তাই রাজা রহুগণ তাতে বিরক্তবোধ করে তাঁকে তিরস্কার করেছিলেন এবং শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। অভিমানশূন্য জড় ভরতও তার সেই গর্বোদ্ধত আদেশের কোনো প্রতিবাদ না করে, শিবিকা বহন করেছিলেন। যদিও পরবর্তীকালে জড় ভরতের মুখে তত্ত্ব কথা শ্রবণ করে তাঁর ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন, কিন্তু সেসময় রহুগণ তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন।

   এমন আচরণে রাজা রহুগণের কি অপরাধ হয়নি? অথবা না জেনে বা পরিস্থিগতভাবে কেউ মহাত্মাদের চরণে অপরাধ করে বসলে তার জন্য কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে? এসব বিষয়ের সমাধানের জন্যই এই প্রবন্ধের অবতারণা। চলুন দেখা যাক কীভাবে এর সমাধান হতে পারে।

   আচরণ মানুষের চেতনার স্থিতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। যেকোনো স্থিতি থেকে যেকোনো ব্যক্তিরই অধঃপতন হতে পারে। জড় ভরত ছিলেন একজন মহাত্মা, কিন্তু পূর্ব জন্মে ভাব স্তরে (তথা আধ্যাত্মিক মার্গে অনেকটা উন্নত স্তরে) উপনীত হওয়া সত্ত্বেও তিনি হরিণশাবকের প্রতি আসক্তির ফলে অধঃপতিত হয়েছিলেন। অর্থাৎ, মৃত্যুর পর তিনি মনুষ্য শরীর থেকে হরিণ শরীর প্রাপ্ত হন। এরপর সেই হরিণ শরীর ত্যাগের পর তিনি আবার মনুষ্য দেহে জড় ভরতরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তখনও তাঁর আধ্যাত্মিক স্থিতি উন্নত ছিল। তিনি ছিলেন মহাত্মা। বৈষ্ণব চিনিতে নারে দেবের শক্তি —  রাজা রহুগণ উন্নত ভক্ত জড় ভরতের স্থিতি না বুঝেই তাঁকে কটু বাক্যে তিরস্কার করেছিলেন। যার ফলে তিনি মহাত্মার চরণে মস্ত বড় অপরাধ করে ফেলেন। যেহেতু রাজা রহুগণ ছিলেন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি, তাই তিনি খুব শীঘ্রই জড় ভরতের প্রকৃত স্থিতি বুঝতে পেরে তাঁর চরণে পতিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।

যে যত প্রকৃতির দ্বারা প্রভাবিত সে ততই দেহাত্মবুদ্ধিতে আবদ্ধ

এ জগতে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের চেতনার মানুষ একে অপরের সাথে আচরণের সময়ও ভিন্ন রকমের আচরণ করে থাকেন। আমরা আমাদের নিজেদের চেতনার ভিত্তিতেই অন্য জনকে মাপতে চেষ্টা করি। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে, যখন আমার থেকেও উন্নত চেতনার ব্যক্তিদের কোনো ভুল দেখি, তা যে প্রকৃতই ভুল, তা বলা যায় না। কেননা, আমি আমার অধিকারের বাইরে বিচার করছি। জড় ভরত সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন ‘জাতিশ্বর’;  যাঁর পূর্বজন্মের স্মৃতি জানা থাকে। তিনি দেহাত্ম বুদ্ধির অতীত ছিলেন। ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে —  অর্থাৎ, শরীর নষ্ট হলেও আত্মা কখনো বিনষ্ট হয় না —  গীতার (২.২০) এই কথাটি তিনি পূর্ণরূপে উপলব্ধি করেছিলেন। অপরদিকে, মধ্বাচার্য বলেছেন, “যে যত প্রকৃতির দ্বারা প্রভাবিত সে ততই দেহাত্মবুদ্ধিতে আবদ্ধ” (ভা.৫.১০.১০ তাৎপর্য)। অর্থাৎ, যত মাত্রায় আমরা দেহ বিষয়ে চিন্তা করি, তত মাত্রায় আমরা বদ্ধ বা কলুষিত হয়ে পড়ি। দুষিত হৃদয়ে মহাত্মাদের চেনা যায় না, যার ফলেই আমরা সেসব ব্যক্তিদের সাথে অসদাচরণ করে বসি। তাঁদের চরণে অপরাধের ফলে আমাদের বর্তমান চেতনা স্থিতির অবনতি ঘটে এবং ধীরে ধীরে আমাদের অনাচার প্রবৃত্তি বাড়তে থাকে। অন্তিমে সর্বস্ব হারিয়ে আমাদের বিনাশ ঘটে। এবিষয়ে শ্রীমদ্ভাগবতে (১০.৪.৪৬) বলা হয়েছে —

আয়ুঃ শ্রিয়ং যশো ধর্মং লোকানাশিষ এব চ।

হন্তি শ্রেয়াংসি সর্বাণি পুংসো মহদতিক্রমঃ।।

অর্থাৎ, “হে রাজন, কেউ যখন মহাত্মাদের উৎপীড়ন করে, তার আয়ু, সৌন্দর্য, যশ, ধর্ম, আশীর্বাদ এবং স্বর্গলোকে উন্নতি আদি সমস্ত মঙ্গল ও সর্ববিধ শুভ বিনষ্ট হয়ে যায়।”

বৈষ্ণবের ক্রিয়া-মুদ্রা বিজ্ঞে না বুঝয়

উন্নত ভক্ত চেনা অত্যন্ত দুষ্কর, যে কারণেই রাজা রহুগণও জড় ভরতের স্থিতি না বুঝতে পেরে তাঁর সাথে হীন আচরণ করেছিলেন। প্রশ্ন হতে পারে, কেন উন্নত ভক্তদের চেনা কঠিন? উত্তরে বলা যায়, ভগবান যেমন নিজেকে সবার সম্মুখে প্রকাশ করেন না বা তাঁকে দর্শনের জন্য ন্যূনতম কিছু যোগ্যতার দরকার হয়, তাঁর একান্ত ভক্তদের বেলায়ও ঠিক তাই।

“সর্ব মহা-গুণগণ বৈষ্ণব-শরীরে।

কৃষ্ণ ভক্তে কৃষ্ণের গুণ সকলি সঞ্চারে”(চৈ.চ.মধ্য.২২.৭৫)।।

অর্থাৎ, বৈষ্ণবের শরীরে সমস্ত দিব্য গুণ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। কৃষ্ণের সমস্ত গুণ কৃষ্ণভক্তের মধ্যে সঞ্চারিত হয়।

ভগবদ্ভক্ত অত্যন্ত কষ্টদায়ক পরিস্থিতিতে থাকলেও তাঁর ভক্তি এবং আবশ্যকীয় কার্যের কথা ভুলে যান না। ভক্তের তা বাহ্যিকভাবে প্রকাশ না পেলেও তাঁদের আভ্যন্তরীণ স্থিতি বজায় থাকে। এটিই উন্নত ভক্তের বিশেষ গুণ। আর এ কারণেই সাধারণ মানুষ এমনকি কনিষ্ঠ ভক্তগণ তাঁদের চিনতে ব্যর্থ হন।

মহাত্মাদের চরণে অপরাধের মতো আর ভয়ঙ্কর কিছু নেই

পূর্বেই বলা হয়েছে, মহাত্মাদের চরণে অপরাধের ফলে সবকিছুর বিনাশ ঘটে। এমনকি বিশ্বের বড় বড় যেসমস্ত অস্ত্র রয়েছে, সেগুলোও মহৎব্যক্তির চরণে করা অপরাধ থেকে রক্ষা করতে পারে না। অনেক সময় কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত মহৎ ব্যক্তির চরণে অপরাধ করে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া না ঘটায় মনে করে, সে কোনো ভুলই করেনি। অথবা ভাবে ঐ ব্যক্তিটি এমন আচরণ পাওয়ারই যোগ্য ছিল। কিন্তু যখন প্রতিক্রিয়া এসে কড়া নাড়ে, তখন সে হয়ত বিগত অপরাধের কথা ভুলেই যায়। তখন আক্ষেপ করে বলে —  আমি এমন কী ভুল করেছি যে, আমাকে এমন দুঃখ ভোগ করতে হচ্ছে? এও বলতে শোনা যায় —  ভগবান পক্ষপাতদুষ্ট, দোষী, অপরাধী আরো কত কী! কিন্তু বুদ্ধিমান ব্যক্তি মাত্রই এসবের প্রকৃত তত্ত্ব জেনে অপরাধ করা থেকে বিরত থেকে সমস্ত জীবের সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করেন। এজন্যই বিজ্ঞ রাজা রহুগণ তার ভুল বুঝতে পেরে বলেছিলেন, “আমি দেবরাজ ইন্দ্রের বজ্রের ভয়ে ভীত নই, শিবের ত্রিশূলের ভয়েও ভীত নই, যমরাজের দণ্ড অথবা অগ্নি, সূর্য, চন্দ্র, বায়ু ও কুবেরের অস্ত্র থেকেও আমার ভয় উৎপন্ন হয় না। কিন্তু আমি ব্রহ্মজ্ঞকুলের অবমাননারূপ অপরাধকে অত্যন্ত ভয় করি।” (ভা.৫.১০.১০)। তাই ভক্তের চরণে অপরাধের মতো ভয়ংকর কোনো কিছু নেই।

   শাস্ত্রে এবিষয়ে বহুবিধ দৃষ্টান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের কাহিনি পড়ে বা শ্রবণ করে আমরা শিক্ষা লাভ করতে পারি। দক্ষকে শিবের চরণে অপরাধের ফলে ছাগমুণ্ড ধারণ করতে হয়েছিল, নলকুবের ধনমদে মত্ত হয়ে নারদ মুনির চরণে অপরাধ করে বৃক্ষদেহ প্রাপ্ত হয়েছিলেন, মহাভাগবত প্রহ্লাদকে মারার প্রচেষ্টা করে তাঁর চরণে অপরাধ করায় তাঁর জন্মদাতা পিতা হিরণ্যকশিপুর জীবন বিপন্ন হয়েছিল।

কৃত বুদ্ধিমান ব্যক্তি ভুল বুঝতে পেরে অনুশোচনা করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন

অন্যকে ক্ষমা করা যেমন মহান গুণের পরিচায়ক, তেমনই নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করাও একটি মহৎগুণ। কাউকে ক্ষমা করতে হৃদয়ে করুণা ভাব থাকা দরকার, আর ভুল করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য দরকার বিনম্র স্বভাব। প্রকৃত জ্ঞানের অনুপস্থিতির জন্য মানুষ অহংকারী হয়ে ওঠে। আর অহংকারী ব্যক্তির বিনয় স্বভাবের অভাব থাকে। অপরদিকে, যিনি বুদ্ধিমান তিনি তার ভুল বুঝে হৃদয়ে সর্বদা অনুতাপ করে থাকেন। সেখানেই তিনি থেমে থাকেন না, বরং যার চরণে অপরাধ হয়েছে, তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করতেও সংকোচ বোধ করেন না। ঠিক একইভাবে, রাজা রহুগণ তার ভুল বুঝতে পেরে তৎক্ষণাৎ মহান ভাগবত জড় ভরতের চরণে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। সাধারণত সম্মানিত বা জ্যেষ্ঠদের চরণে অপরাধ হলে ক্ষমা চাওয়া সহজ, কিন্তু যারা বয়সে ছোট বা অবহেলিত, তাদের সাথে অসদাচরণের পর তাদের নিকট ক্ষমা চাওয়ার মানসিকতা কত জনের থাকে! রাজা রহুগণ যদিও কেবল জড় ভরতের চরণেই অপরাধ করেছিলেন, তবুও তিনি সকল শ্রেণির মানুষের (শিশু, বালক, অবধূত অথবা মহান ব্রাহ্মণের) নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন।

ভক্তের ক্রোধ বা প্রসন্নতা উভয়ই আশীর্বাদ বাহক

ভগবদ্ভক্ত কারো প্রতি প্রসন্ন হলে তা জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তিগুলোর মধ্যে একটি। ভক্তের প্রসন্নতা বিধানে জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল বয়ে আনে। ভগবানের মহান ভক্ত কারো থেকে বিরূপ আচরণ পেয়ে অপরাধীর প্রতি কখনো কখনো ক্রোধিত হন। কিন্তু বাহ্যে এমন ভাব দেখা গেলেও তাঁদের হৃদয় করুণায় পূর্ণ থাকে। তাঁরা কখনো কারো অপরাধ গ্রহণ করেন না বা শক্তি থাকা সত্ত্বেও প্রতিশোধ নেন না (ভা.১.১৮.৪৮)। তাদের প্রদত্ত তিরস্কার ও অভিশাপ তারা কেবল অপরাধীর সংশোধনের জন্যই করে থাকেন। ঠিক একইভাবে, জড় ভরত রহুগণের এমন তিরস্কারের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ তাঁর প্রতি ক্রুদ্ধ না হয়ে বরং তার কল্যাণে তাকে যথার্থ শিক্ষা দিয়েছিলেন। কখনো কখনো জীবের দেহাত্মবুদ্ধি দূর করতেও মহাত্মাগণ ক্রোধিত হন বা অভিশাপ দেন। নিম্নে শ্রীমদ্ভাগবত থেকে কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হলো যেখানে অভিশাপও আশীর্বাদ বয়ে এনেছে:

 — নলকুবের ও মণিগ্রীব, নারদ মুনির চরণে অপরাধের ফলে বৃক্ষযোনি প্রাপ্ত হলে স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক বৃক্ষযোনি থেকে মুক্তি লাভ করেন।

 — প্রজাপতি দক্ষ, শিবের চরণে অপরাধ করে ছাগমুণ্ড পেয়ে শিবের কৃপাতেই তার কলুষিত হৃদয় নির্মল হয়েছিল (ভা.৪.৭.৮ — ১০)

     রাজা ইন্দ্রদুম্ন, অগস্ত্য মুনির অভিশাপে গজেন্দ্র (হাতি) হয়ে ভগবান শ্রীবিষ্ণু কর্তৃক উদ্ধার পেয়েছিলেন (ভা.৮.৪.১১-১২)

 — গন্ধর্বশ্রেষ্ঠ রাজা হুহু, দেবল ঋষির চরণে অপরাধ করে কুমির হওয়ার অভিশাপ পেয়ে শ্রীবিষ্ণু কর্তৃক উদ্ধার পেয়েছিলেন (ভা.৮.৪.৪)

 — শিশুপাল, শ্রীকৃষ্ণকে তিরস্কার করে তাঁর সুদর্শন চক্র দ্বারা মুণ্ডচ্ছেদরূপ পুরস্কৃত হয়ে সাযুজ্য মুক্তি লাভ করেছিলেন।

 — চিত্রকেতু রাজা, শিবের আচরণ সংশোধন করতে গিয়ে পার্বতী দেবী কর্তৃক অসুরকুলে অভিশপ্ত হয়ে ইন্দ্র কর্তৃক হত হয়ে মুক্তি লাভ করেন।

ভক্ত সকল জীবের সুহৃদ

অনেকেই চিন্তা করেন সাধু-সন্তগণ ধর্মীয় কার্যকালাপ বা অনুষ্ঠানাদি করেন তাদের জীবন ধারণ করার জন্য। কিন্তু ভক্তরা নিজেদের জীবন নিয়ে কখনো উদ্বিগ্ন হন না, বরং তাঁরা পরের দুঃখে দুঃখিত হন, সেজন্য তাঁরা কৃষ্ণবিমুখ জীবদের দুঃখ নিরসনের জন্য সর্বত্র বিচরণ করেন (অনুগ্রহায় চরন্তি নূনং-ভা.৩.৫.৩)।

মহন্তের স্বভাব এই তারিতে পামর।

নিজ কার্য নাই তবু যান পর ঘর।

প্রহ্লাদ মহারাজ তাঁর নিজের জন্য প্রার্থনা না করে অন্যের হিতের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছেন। বাসুদেব দত্ত সকল জীবের সমস্ত পাপ গ্রহণের প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে তাদের সবাইকে ভগবানের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। কপিলদেব সাংখ্য যোগ বিশ্লেষণ করার সময় বলেছিলেন, সুহৃদঃ সর্বদেহিনাম্ —  আমাদের সকল জীবের বন্ধু হওয়া উচিত। মানুষ কেবল মানুষের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করে অন্যান্য জীবদের সাথে হিংস্র আচরণ করে; কিন্তু এমন আচরণ মানবীয় নয়, বরং পাশবিক। আমরা যখন অন্য জীবদের বন্ধুর মতো দেখব, তখন তারাও তাদের হিংস্রতা ভুলে যাবে, সেখানে মানুষদের হিংস্র আচরণের প্রশ্নই আসে না। আর তখনই যুদ্ধ-বিদ্রোহ, হানাহানি, খুন, লুটতরাজ, ধর্ষণ এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগাদির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিসমূহ হ্রাস পেয়ে এই জড় জগতই একটি বৈকুণ্ঠধামে (যেখানে কোনো প্রকার কুণ্ঠা থাকে না) পরিণত হবে।

মূল্যবোধ ও প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হ্রাসে যেকোনো রাষ্ট্রের উন্নতির মানদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে সর্বস্তরের মানুষ দুঃখ ও কষ্ট ভোগ করে। অপরাধীর অপরাধ বোধের জ্ঞান লোপ পেলে তাকে জ্ঞান দিলেও তা হৃদয়ঙ্গম করতে অসমর্থ হয় এবং সে সমাজের জন্য মহাশত্রুতে পরিণত হয়। এরূপ অপরাধ যদি ভগবানের কোনো প্রিয় ভক্তের সাথে হয়, ভক্ত অপরাধসমূহ ক্ষমা করলেও ভগবান নির্দিষ্ট সময়ে তার উপযুক্ত শাস্তি বিধান করে থাকেন। ফলে অপরাধী নিজেকে সংশোধন করে ভগবান ও তাঁর ভক্তের কৃপা-আশীর্বাদ লাভ করতে সমর্থ হয়।  — হরেকৃষ্ণ

সনাতন ধর্মের  মৌলিক জিজ্ঞাসা
সনাতন ধর্মের মৌলিক জিজ্ঞাসা
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়
হ্যাপি  নিউ ইয়ার
হ্যাপি নিউ ইয়ার
আমাদের গুপ্তধন
আমাদের গুপ্তধন
ইস্কনের লক্ষ্য ও  উদ্দেশ্য কার্যর্ক্রম
ইস্কনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কার্যর্ক্রম
বৈদিক শাস্ত্রের শ্রেণিবিভাগ
বৈদিক শাস্ত্রের শ্রেণিবিভাগ
ভয় থেকে মুক্তি
ভয় থেকে মুক্তি
বিধ্বংসী মন্ত্রণা
বিধ্বংসী মন্ত্রণা
শিক্ষার সারমর্ম
শিক্ষার সারমর্ম