ইস্কন কী?
International Society for Krishna Consciousness — এর সংক্ষিপ্ত রূপ ওঝকঈঙঘ; বাংলায় — আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)। বহির্বিশ্বেএটি ‘ঐধৎব কৎরংযহধ গড়াবসবহঃ’ নামেও পরিচিত। ইস্কন কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সংগঠন নয়। এটি বৈদিক সনাতন ধর্মের অন্তর্গত গৌড়ীয় — বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত একটি ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংগঠন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ও উপনিষদসহ অন্যান্য বৈদিক শাস্ত্রসমূহের শিক্ষাই এ সংস্থার দর্শন ও ভিত্তি। সুপ্রাচীন এই সনাতন দর্শন প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে অহিংসা, প্রেম ও মানবতার মূর্ত প্রতীক শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। চৈতন্যদেব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন — “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম। সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম।” কিন্তু এই নামের প্রচার দীর্ঘকাল কেবল ভারতবর্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর পৃথিবীজুড়ে কৃষ্ণনাম প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে ৭০ বছর বয়সী এক বাঙালি সন্ন্যাসী কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তাঁর গুরুদেবের নির্দেশে একাকী আমেরিকায় পদার্পণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে মাত্র এক বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন। এর কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য উৎসর্গীকৃত নয় এবং নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখার দ্বারাও আবদ্ধ নয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই এ সংস্থার বহু প্রচারকেন্দ্র ও মন্দির স্থাপিত হয়েছে এবং এর জনকল্যাণমুখী সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইস্কনের মূলনীতি
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ (হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।) এবং চারটি বিধি-নিষেধ পালনই ইস্কনের মূলনীতি। এই চারটি বিধি-নিষেধ হলো —
১. আমিষাহার (মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি) বর্জন
২. নেশা (সিগারেট, মদ, গাঁজা ইত্যাদি) বর্জন
৩. দ্যূতক্রীড়া (জুয়া খেলা) বর্জন এবং
৪. অবৈধ (বিবাহ বহিভূর্ত) শারীরিক সম্পর্ক বর্জন
ইস্কনের প্রত্যেক সক্রিয় সদস্যের এ মূলনীতিগুলো পালন করা বাধ্যতামূলক।
ইস্কনের লক্ষ্য
বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য হলো ভগবানের আরাধনা করা এবং এ দুঃখময় জগৎ থেকে মুক্ত হয়ে নিত্য আনন্দময় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। কিন্তু মানুষ ভগবানকে ভুলে গিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে নানারকম দুঃখ ভোগ করছে এবং সেই সাথে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, হানাহানি করে পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে। তাই ইস্কনের লক্ষ্য হলো মানুষকে শুদ্ধ জীবনধারায় অনুপ্রাণিত করে তাদের সুপ্ত আধ্যাত্মিক চেতনা বিকশিত করা এবং শ্রীচৈতন্যদেবের অহিংস নীতি প্রতিষ্ঠার দ্বারা বিশ্বভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা তথা বিশ্বের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা।
ইস্কনের উদ্দেশ্য
ইস্কনের উপরোল্লিখিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে সাতটি মূল উদ্দেশ্য হলো —
১. জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিভ্রান্তি প্রতিহত করা এবং জগতে যথার্থ সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সুসংবদ্ধভাবে মানবসমাজে ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান প্রচার করা এবং মানুষকে পারমার্থিক জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত হতে শিক্ষা দেওয়া।
২. শ্রীমদ্ভবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অনুসরণে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা।
৩. প্রতিটি জীবই যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ তা উপলব্ধি করানো এবং প্রতিটি সদস্য, এমনকি প্রতিটি মানুষের চিত্তে সেই ভাবনার উদয় করানোর জন্য এই সংস্থার সমস্ত সদস্যকে পরস্পরের কাছে আনা এবং শ্রীকৃষ্ণের নিকটবর্তী করা।
৪. শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রবর্তিত সমবেতভাবে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করার যে সংকীর্তন আন্দোলন, সে সম্বন্ধে সকলকে শিক্ষা দেওয়া এবং অনুপ্রাণিত করা।
৫. সংস্থার সদস্য ও সমাজের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য লীলাবিলাসের অনুকূল এবং তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করা।
৬. একটি সরল ও স্বাভাবিক জীবনধারা সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সদস্যদের পরস্পরের কাছে আনা।
৭. পূর্বোল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলো সাধন করবার জন্য সাময়িকী, পত্রিকা, গ্রন্থ এবং অন্যান্য লেখা প্রকাশ ও বিতরণ করা।
ইস্কনের কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী ইস্কন মন্দিরসমূহে দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য — প্রত্যুষে (ভোর ৪টার পূর্বে) শয্যাত্যাগ ও প্রাতঃকৃত্য, সমবেত প্রার্থনা, মন্ত্রধ্যান (হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ), নামকীর্তন, শাস্ত্র অধ্যয়ন, ভাগবতীয় প্রবচন, ভক্তিকথা শ্রবণ ও প্রসাদ গ্রহণ। এরপর দিনব্যাপী আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, চরিত্রগঠন প্রভৃতি বিষয়ে কোর্স বা সেমিনার প্রদান, ভক্তিগ্রন্থ বিতরণ, বিগ্রহসেবা, সন্ধ্যা — প্রার্থনাদি কার্যক্রম সম্পাদন।
এছাড়া ইস্কন বছরব্যাপী রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, গৌরপূর্ণিমা প্রভৃতি উৎসব উদ্যাপন, সংকীর্তন শোভাযাত্রা, তীর্থযাত্রা আয়োজন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এসকল কার্যক্রমের বাইরেও ইস্কনের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। যেমন — ফুড ফর লাইফ কার্যক্রম (খাদ্য-বস্ত্রাদি ত্রাণ বিতরণ), চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম, গোসেবা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইকোভিলেজ প্রকল্প প্রভৃতি।
ইস্কনের অবদান
বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সেবা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইস্কন অসামান্য অবদান রাখছে, যা জাতিসংঘ এবং বিশ্বের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমাদৃত ও প্রসংশিত। এছাড়া মাদকাসক্তি, দ্যূতক্রীড়া, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ইভটিজিং, ধর্ষণ, যুদ্ধ-বিদ্রোহ, সংঘাত, সহিংসতা, হতাশা, বিষণ্ণতা প্রভৃতি নেতিবাচক প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ইস্কনের ভূমিকা অপরিসীম। সেই সঙ্গে সমাজে অহিংস নীতি প্রতিষ্ঠা, শান্তি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সাম্যবাদ ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে ইস্কন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
ইস্কনের অর্জন
১. ২০১৫ সালে ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের পাশ্চাত্যযাত্রার ৫০তম বর্ষপূর্তি স্মরণে প্রকাশিত হয় মালয়েশিয়ান ডাকটিকেট।
২. ২০১৯ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হিন্দুইজম স্টাডিজ — এ ইস্কনকে অন্তভুর্ক্ত করে।
৩. ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ‘মাল্টিফেইথ অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল’ — এর সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন ইস্কন ভক্ত গোপাল প্যাটেল (গোপাল লীলা দাস)।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনে কীভাবে বৈদিক সংস্কৃতি অবদান রাখতে পারে, সে ব্যাপারে ২১ জুন ২০১৯ নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইস্কন ভক্ত গৌরগোপাল দাস ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যোগ’ শিরোনামে বক্তব্য প্রদান করেন।
৫. ২০২৪ সালের ২০ মার্চ রাসভক্তি দেবী দাসী (ড.অদিতি মিশাল) সম্মানজনক Outstanding Women in GlobalSustainable Development-2024 আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টারে নিউইয়র্কে তাকে এই সম্মাননা দেয় Global Alliance of Sustainable Development Foundation.
৬. ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্থতার জন্য ‘মেন্টর অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে ইসকন গ্লোবাল ডিউটি অফিসার, গভর্নিং বডি কমিশনার এবং ইসকন মুম্বাই ‘গোবর্ধন ইকো ভিলেজ’ — এর পরিচালক শ্রীমান গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী দুবাইতে ফচুর্না গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কৃত হন।
৭. ২০১৭ সালে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা টঘডঞঙ কতৃর্ক বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় ইস্কনের ইকোভিলেজ প্রকল্পকে।
০৮. ২৪ নভেম্বর ২০২৪ নাইজেরিয়ার লাগোসে খাদ্য বিতরণ ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইসকন সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ডস (ঝওঝঅ) ২০২৪ — এ ভূষিত হয়।
০৯. ২০২০ সালের অক্টোবরে ‘গ্রিন বিল্ডিং কংগ্রেস’ — এর ১৮তম সংস্করণে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘‘IGBC গ্রিন চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড ২০২০’’ প্রাপ্ত হয়েছে ইস্কন।
১০. ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ইস্কন ফুড ফর লাইফ কতৃর্ক ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক খাদ্য বিতরণের রেকর্ড করা হয়।
১১. সম্প্রতি ২০২৪ সালে ইস্কনের ঐধৎব কৎরংযহধ চৎরসধৎু ঝপযড়ড়ষ নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যে অবস্থিত গুরুকূল বিদ্যালয় বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব রাখার জন্য ‘সোশাল ইম্প্যাক্ট স্কুল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ পুরস্কারে ভূষিত হয়।
১২. শিক্ষাক্রমের সাথে বৈদিক সংস্কৃতিকে যুক্ত করে ইস্কন পরিচালিত ‘অবন্তী চেইন অব স্কুল’ অসাধারণ একাডেমিক সাফল্য লাভ করায় এ স্কুলের প্রোগ্রামে ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ — এর ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
১৩. ২০১৫ সালে প্রভুপাদের পাশ্চাত্যযাত্রার ৫০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ১০৫টি দেশের ভক্তবৃন্দ সমবেতভাবে বাংলা ভক্তিগীতি গেয়ে এবং ১০৬টি দেশের লোক যোগ অনুশীলন করে দুটো গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সনদ প্রাপ্ত হয় ইস্কন।
১৪. ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর হাঙ্গেরিতে ইস্কন সন্ন্যাসী শ্রীমৎ শিবরাম স্বামী তাঁর দাতব্য, মানবিক ও মূল্যবোধ সৃষ্টিকারী কাজের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের জুনিয়র মন্ত্রী ক্যারোলি মানহার্জ — এর হাত থেকে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গোল্ড ক্রস’ প্রাপ্ত হন।
১৫. ২০১৯ সালো অক্টোবরে ৮০০০ যুবকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে
“Largest Addiction Awareness FestivalÕÕ বিষয়ে বিশ্বরেকর্ড করে ইস্কন।
১৬. ২০২১ সালে করোনা মহামারিতে অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডের ‘সার্টিফিকেট অব কমিটমেন্ট’ সনদ লাভ করে ইস্কন।
১৭. ১ মে ২০২১ থেকে ৩১ মে ২০২৪ তিন বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৮০১ জন ভক্তবৃন্দ জুমে অনলাইনে বিরতিহীনভাবে মন্ত্র জপ করে ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ড সনদ প্রাপ্ত হয়।
১৮. মায়াপুরে Central Board of Secondary Education(CBSE) অধিভুক্ত ‘ভক্তিবেদান্ত ন্যাশনাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করে ইস্কন। ইংলিশ মিডিয়াম এই স্কুলে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে; এমনকি সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরাও এখানে পড়াশোনা করে।
১৯. বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উদুর্, আরবি, ফার্সি, তুর্কি, রাশিয়া, মারাঠী, পাঞ্জাবী, গুজরাটী, তামিল, চায়না, জাপানি প্রভৃতি প্রায় ৮০টি ভাষায় ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ’ প্রকাশ এবং ১০৮ টি ভাষায় এর ভূমিকা অনুবাদ করা হয়।
২০. সারা বিশ্বব্যাপী ইস্কনের ৮০০ এরও অধিক কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে আছে মন্দির, স্কুল ও কলেজ।
২১. ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে তৈরি হচ্ছে বৈদিক তারামণ্ডল সমন্বিত সর্ববৃহৎ মন্দির ঞঙঠচ ।
২২. আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রায় ১২০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় নব বৃন্দাবন ধাম — ইকোভিলেজ ও স্বর্ণমন্দির। মুম্বাইতেও রয়েছে সুবিশাল গোবর্ধন ইকোভিলেজ ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা।
২৩. সারাবিশ্বে ইসকনের প্রায় ৭০-এর অধিক গবাদিপশুর খামার এবং ইকোভিলেজ আছে যেগুলো পরিবেশবাদী কৃষির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
২৪. প্রায় ৬০ কোটির উপর ধর্ম ও নীতিশিক্ষামূলক বই বিতরণ করেছে ১৯৬৬ সালের পর থেকে।
২৫. এছাড়া ইস্কনের অব্যাহত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা, জর্জ হ্যারিসন, স্টিভ জবস সহ বিভিন্ন দেশের বহু সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।
ইস্কনের বহু অর্জনের মধ্যে এখানে কেবল কিছু সংখ্যক তুলে ধরা হলো।
ইস্কন তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অদ্যাবধি সুনামের সাথে সারা পৃথিবীতে ধর্মীয় ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা সকলেই ভগবানের সৃষ্টি — চিন্ময় আত্মা এবং তাঁরই নিত্য দাস; সে সূত্রে আমরা সকলেই পরস্পর আত্মীয়স্বরূপ — বসুধৈব কুটুম্বকম্। সেজন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভেদাভেদ দূর করে ইস্কন সবাইকে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করছে। তাই ড. এম.এন. ব্যাশাম বলেছেন — শ্রীল প্রভুপাদ যে গৃহ নির্মাণ করেছেন সেখানে সারা পৃথিবীর মানুষ আশ্রয় পেতে পারে।
— হরেকৃষ্ণ
International Society for Krishna Consciousness — এর সংক্ষিপ্ত রূপ ওঝকঈঙঘ; বাংলায় — আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন)। বহির্বিশ্বেএটি ‘ঐধৎব কৎরংযহধ গড়াবসবহঃ’ নামেও পরিচিত। ইস্কন কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক সংগঠন নয়। এটি বৈদিক সনাতন ধর্মের অন্তর্গত গৌড়ীয় — বৈষ্ণব সম্প্রদায়ভুক্ত একটি ধর্মীয় ও সমাজসেবামূলক সংগঠন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত ও উপনিষদসহ অন্যান্য বৈদিক শাস্ত্রসমূহের শিক্ষাই এ সংস্থার দর্শন ও ভিত্তি। সুপ্রাচীন এই সনাতন দর্শন প্রায় ৫০০ বছর পূর্বে অহিংসা, প্রেম ও মানবতার মূর্ত প্রতীক শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। চৈতন্যদেব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন — “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম। সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম।” কিন্তু এই নামের প্রচার দীর্ঘকাল কেবল ভারতবর্ষেই সীমাবদ্ধ ছিল। এরপর পৃথিবীজুড়ে কৃষ্ণনাম প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৬৫ সালে ৭০ বছর বয়সী এক বাঙালি সন্ন্যাসী কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ তাঁর গুরুদেবের নির্দেশে একাকী আমেরিকায় পদার্পণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে মাত্র এক বছরের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরে এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন। এর কার্যক্রম কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য উৎসর্গীকৃত নয় এবং নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখার দ্বারাও আবদ্ধ নয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই এ সংস্থার বহু প্রচারকেন্দ্র ও মন্দির স্থাপিত হয়েছে এবং এর জনকল্যাণমুখী সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ইস্কনের মূলনীতি
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ (হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।) এবং চারটি বিধি-নিষেধ পালনই ইস্কনের মূলনীতি। এই চারটি বিধি-নিষেধ হলো —
১. আমিষাহার (মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি) বর্জন
২. নেশা (সিগারেট, মদ, গাঁজা ইত্যাদি) বর্জন
৩. দ্যূতক্রীড়া (জুয়া খেলা) বর্জন এবং
৪. অবৈধ (বিবাহ বহিভূর্ত) শারীরিক সম্পর্ক বর্জন
ইস্কনের প্রত্যেক সক্রিয় সদস্যের এ মূলনীতিগুলো পালন করা বাধ্যতামূলক।
ইস্কনের লক্ষ্য
বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য হলো ভগবানের আরাধনা করা এবং এ দুঃখময় জগৎ থেকে মুক্ত হয়ে নিত্য আনন্দময় ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়া। কিন্তু মানুষ ভগবানকে ভুলে গিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে নানারকম দুঃখ ভোগ করছে এবং সেই সাথে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, হানাহানি করে পৃথিবীজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করছে। তাই ইস্কনের লক্ষ্য হলো মানুষকে শুদ্ধ জীবনধারায় অনুপ্রাণিত করে তাদের সুপ্ত আধ্যাত্মিক চেতনা বিকশিত করা এবং শ্রীচৈতন্যদেবের অহিংস নীতি প্রতিষ্ঠার দ্বারা বিশ্বভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গড়ে তোলা তথা বিশ্বের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করা।
ইস্কনের উদ্দেশ্য
ইস্কনের উপরোল্লিখিত লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে সাতটি মূল উদ্দেশ্য হলো —
১. জীবনের যথার্থ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বিভ্রান্তি প্রতিহত করা এবং জগতে যথার্থ সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সুসংবদ্ধভাবে মানবসমাজে ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান প্রচার করা এবং মানুষকে পারমার্থিক জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত হতে শিক্ষা দেওয়া।
২. শ্রীমদ্ভবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবত অনুসরণে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করা।
৩. প্রতিটি জীবই যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অবিচ্ছেদ্য অংশ তা উপলব্ধি করানো এবং প্রতিটি সদস্য, এমনকি প্রতিটি মানুষের চিত্তে সেই ভাবনার উদয় করানোর জন্য এই সংস্থার সমস্ত সদস্যকে পরস্পরের কাছে আনা এবং শ্রীকৃষ্ণের নিকটবর্তী করা।
৪. শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রবর্তিত সমবেতভাবে ভগবানের দিব্য নাম কীর্তন করার যে সংকীর্তন আন্দোলন, সে সম্বন্ধে সকলকে শিক্ষা দেওয়া এবং অনুপ্রাণিত করা।
৫. সংস্থার সদস্য ও সমাজের জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দিব্য লীলাবিলাসের অনুকূল এবং তাঁর উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি পবিত্র স্থান নির্মাণ করা।
৬. একটি সরল ও স্বাভাবিক জীবনধারা সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়ার জন্য সদস্যদের পরস্পরের কাছে আনা।
৭. পূর্বোল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলো সাধন করবার জন্য সাময়িকী, পত্রিকা, গ্রন্থ এবং অন্যান্য লেখা প্রকাশ ও বিতরণ করা।
ইস্কনের কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী ইস্কন মন্দিরসমূহে দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য — প্রত্যুষে (ভোর ৪টার পূর্বে) শয্যাত্যাগ ও প্রাতঃকৃত্য, সমবেত প্রার্থনা, মন্ত্রধ্যান (হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ), নামকীর্তন, শাস্ত্র অধ্যয়ন, ভাগবতীয় প্রবচন, ভক্তিকথা শ্রবণ ও প্রসাদ গ্রহণ। এরপর দিনব্যাপী আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, চরিত্রগঠন প্রভৃতি বিষয়ে কোর্স বা সেমিনার প্রদান, ভক্তিগ্রন্থ বিতরণ, বিগ্রহসেবা, সন্ধ্যা — প্রার্থনাদি কার্যক্রম সম্পাদন।
এছাড়া ইস্কন বছরব্যাপী রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, গৌরপূর্ণিমা প্রভৃতি উৎসব উদ্যাপন, সংকীর্তন শোভাযাত্রা, তীর্থযাত্রা আয়োজন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এসকল কার্যক্রমের বাইরেও ইস্কনের বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। যেমন — ফুড ফর লাইফ কার্যক্রম (খাদ্য-বস্ত্রাদি ত্রাণ বিতরণ), চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা কার্যক্রম, গোসেবা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইকোভিলেজ প্রকল্প প্রভৃতি।
ইস্কনের অবদান
বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, দুর্যোগকালে ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসা সেবা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা প্রদান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইস্কন অসামান্য অবদান রাখছে, যা জাতিসংঘ এবং বিশ্বের স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমাদৃত ও প্রসংশিত। এছাড়া মাদকাসক্তি, দ্যূতক্রীড়া, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ইভটিজিং, ধর্ষণ, যুদ্ধ-বিদ্রোহ, সংঘাত, সহিংসতা, হতাশা, বিষণ্ণতা প্রভৃতি নেতিবাচক প্রভাব থেকে সমাজকে মুক্ত করতে ইস্কনের ভূমিকা অপরিসীম। সেই সঙ্গে সমাজে অহিংস নীতি প্রতিষ্ঠা, শান্তি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, সাম্যবাদ ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে ইস্কন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
ইস্কনের অর্জন
১. ২০১৫ সালে ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের পাশ্চাত্যযাত্রার ৫০তম বর্ষপূর্তি স্মরণে প্রকাশিত হয় মালয়েশিয়ান ডাকটিকেট।
২. ২০১৯ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হিন্দুইজম স্টাডিজ — এ ইস্কনকে অন্তভুর্ক্ত করে।
৩. ২০১৯ সালে জাতিসংঘের ‘মাল্টিফেইথ অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল’ — এর সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন ইস্কন ভক্ত গোপাল প্যাটেল (গোপাল লীলা দাস)।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনে কীভাবে বৈদিক সংস্কৃতি অবদান রাখতে পারে, সে ব্যাপারে ২১ জুন ২০১৯ নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইস্কন ভক্ত গৌরগোপাল দাস ‘জলবায়ু পরিবর্তনে যোগ’ শিরোনামে বক্তব্য প্রদান করেন।
৫. ২০২৪ সালের ২০ মার্চ রাসভক্তি দেবী দাসী (ড.অদিতি মিশাল) সম্মানজনক Outstanding Women in Global Sustainable Development-2024 আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন। জাতিসংঘের হেডকোয়ার্টারে নিউইয়র্কে তাকে এই সম্মাননা দেয় Global Alliance of Sustainable Development Foundation.
৬. ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা ও সুস্থতার জন্য ‘মেন্টর অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে ইসকন গ্লোবাল ডিউটি অফিসার, গভর্নিং বডি কমিশনার এবং ইসকন মুম্বাই ‘গোবর্ধন ইকো ভিলেজ’ — এর পরিচালক শ্রীমান গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী দুবাইতে ফচুর্না গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কৃত হন।
৭. ২০১৭ সালে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা টঘডঞঙ কতৃর্ক বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হয় ইস্কনের ইকোভিলেজ প্রকল্পকে।
০৮. ২৪ নভেম্বর ২০২৪ নাইজেরিয়ার লাগোসে খাদ্য বিতরণ ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইসকন সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অ্যাওয়ার্ডস (ঝওঝঅ) ২০২৪ — এ ভূষিত হয়।
০৯. ২০২০ সালের অক্টোবরে ‘গ্রিন বিল্ডিং কংগ্রেস’ — এর ১৮তম সংস্করণে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘‘IGBC গ্রিন চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড ২০২০’’ প্রাপ্ত হয়েছে ইস্কন।
১০. ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ইস্কন ফুড ফর লাইফ কতৃর্ক ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক খাদ্য বিতরণের রেকর্ড করা হয়।
১১. সম্প্রতি ২০২৪ সালে ইস্কনের ঐধৎব কৎরংযহধ চৎরসধৎু ঝপযড়ড়ষ নামে পরিচিত যুক্তরাজ্যে অবস্থিত গুরুকূল বিদ্যালয় বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব রাখার জন্য ‘সোশাল ইম্প্যাক্ট স্কুল অ্যাওয়ার্ড ২০২৪’ পুরস্কারে ভূষিত হয়।
১২. শিক্ষাক্রমের সাথে বৈদিক সংস্কৃতিকে যুক্ত করে ইস্কন পরিচালিত ‘অবন্তী চেইন অব স্কুল’ অসাধারণ একাডেমিক সাফল্য লাভ করায় এ স্কুলের প্রোগ্রামে ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ — এর ভূয়সী প্রশংসা লাভ করে।
১৩. ২০১৫ সালে প্রভুপাদের পাশ্চাত্যযাত্রার ৫০তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ১০৫টি দেশের ভক্তবৃন্দ সমবেতভাবে বাংলা ভক্তিগীতি গেয়ে এবং ১০৬টি দেশের লোক যোগ অনুশীলন করে দুটো গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সনদ প্রাপ্ত হয় ইস্কন।
১৪. ২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর হাঙ্গেরিতে ইস্কন সন্ন্যাসী শ্রীমৎ শিবরাম স্বামী তাঁর দাতব্য, মানবিক ও মূল্যবোধ সৃষ্টিকারী কাজের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের জুনিয়র মন্ত্রী ক্যারোলি মানহার্জ — এর হাত থেকে রাজ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গোল্ড ক্রস’ প্রাপ্ত হন।
১৫. ২০১৯ সালো অক্টোবরে ৮০০০ যুবকের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে
“Largest Addiction Awareness FestivalÕÕ বিষয়ে বিশ্বরেকর্ড করে ইস্কন।
১৬. ২০২১ সালে করোনা মহামারিতে অসহায় মানুষদের খাদ্য সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ডের ‘সার্টিফিকেট অব কমিটমেন্ট’ সনদ লাভ করে ইস্কন।
১৭. ১ মে ২০২১ থেকে ৩১ মে ২০২৪ তিন বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১৮০১ জন ভক্তবৃন্দ জুমে অনলাইনে বিরতিহীনভাবে মন্ত্র জপ করে ওয়ার্ল্ড বুক অব রেকর্ড সনদ প্রাপ্ত হয়।
১৮. মায়াপুরে Central Board of Secondary Education(CBSE) অধিভুক্ত ‘ভক্তিবেদান্ত ন্যাশনাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করে ইস্কন। ইংলিশ মিডিয়াম এই স্কুলে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে; এমনকি সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরাও এখানে পড়াশোনা করে।
১৯. বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উদুর্, আরবি, ফার্সি, তুর্কি, রাশিয়া, মারাঠী, পাঞ্জাবী, গুজরাটী, তামিল, চায়না, জাপানি প্রভৃতি প্রায় ৮০টি ভাষায় ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা যথাযথ’ প্রকাশ এবং ১০৮ টি ভাষায় এর ভূমিকা অনুবাদ করা হয়।
২০. সারা বিশ্বব্যাপী ইস্কনের ৮০০ এরও অধিক কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে আছে মন্দির, স্কুল ও কলেজ।
২১. ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মায়াপুরে তৈরি হচ্ছে বৈদিক তারামণ্ডল সমন্বিত সর্ববৃহৎ মন্দির ঞঙঠচ ।
২২. আমেরিকার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রায় ১২০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় নব বৃন্দাবন ধাম — ইকোভিলেজ ও স্বর্ণমন্দির। মুম্বাইতেও রয়েছে সুবিশাল গোবর্ধন ইকোভিলেজ ও ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থা।
২৩. সারাবিশ্বে ইসকনের প্রায় ৭০-এর অধিক গবাদিপশুর খামার এবং ইকোভিলেজ আছে যেগুলো পরিবেশবাদী কৃষির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
২৪. প্রায় ৬০ কোটির উপর ধর্ম ও নীতিশিক্ষামূলক বই বিতরণ করেছে ১৯৬৬ সালের পর থেকে।
২৫. এছাড়া ইস্কনের অব্যাহত কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কালজয়ী ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলা, জর্জ হ্যারিসন, স্টিভ জবস সহ বিভিন্ন দেশের বহু সাবেক ও বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।
ইস্কনের বহু অর্জনের মধ্যে এখানে কেবল কিছু সংখ্যক তুলে ধরা হলো।
ইস্কন তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অদ্যাবধি সুনামের সাথে সারা পৃথিবীতে ধর্মীয় ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমরা সকলেই ভগবানের সৃষ্টি — চিন্ময় আত্মা এবং তাঁরই নিত্য দাস; সে সূত্রে আমরা সকলেই পরস্পর আত্মীয়স্বরূপ — বসুধৈব কুটুম্বকম্। সেজন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভেদাভেদ দূর করে ইস্কন সবাইকে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করছে। তাই ড. এম.এন. ব্যাশাম বলেছেন — শ্রীল প্রভুপাদ যে গৃহ নির্মাণ করেছেন সেখানে সারা পৃথিবীর মানুষ আশ্রয় পেতে পারে।
— হরেকৃষ্ণ