সুখের মাপকাঠি
সুখের মাপকাঠি
✍ জয়পতাকা স্বামী
১৭ জুলাই ২০২৬
বর্ষ: 2025  |  ইস্যু: ২য় সংখ্যা

এই বিশ্বে সর্বোচ্চ সুখের ধারণা বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন রকম হয়। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, এই পৃথিবীতে কেউ কেবল তখনই সর্বাধিক সুখ প্রাপ্ত হতে পারেন, যখন তিনি সত্ত্বগুণে বিরাজ করেন। জড় জগতের সবকিছু খুবই আপেক্ষিক, সবকিছুর মধ্যে দুঃখ এতই মিশ্রিত যে, তা কখনো কাউকে তৃপ্তি দেয় না। পক্ষান্তরে কৃষ্ণের চিন্ময় গুণাবলির উপলব্ধি থেকে প্রাপ্ত একবিন্দু সুখ যেকোনো ব্যক্তিকে সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট করে।

মানুষ যত প্রকার সুখ লাভ করতে পারে, সেই সুখের সমষ্টিকে যদি একটি সংখ্যায় প্রকাশ করা যায়, তবে তা এই পৃথিবীর সর্বোচ্চ সুখ প্রাপ্তির একটি আদর্শ পরিমাপ হবে। তবে এই বিশ্বে সর্বোচ্চ সুখের ধারণা বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন রকম হয়। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, এই পৃথিবীতে কেউ কেবল তখনই সর্বাধিক সুখ প্রাপ্ত হতে পারেন, যখন তিনি সত্ত্বগুণে বিরাজ করেন।

   আজকাল সুখের ধারণা রজ ও তমোগুণের দ্বারা দুষিত হয়ে ক্ষণে ক্ষণে তাদের কিছু হুজুগের দৌড়ে ঠেলে দেয়, কিন্তু পরে এটি তাদের উদ্বেগ, ভয়, অনুতাপ ও দুঃখে নিমজ্জিত করে। এরূপ হুজুগের দৌড়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুখকে তাৎপর্যহীন বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু কেউ যদি এ জগতে কারো সারা জীবনের লভ্য সর্বোচ্চ সুখের সমষ্টি করে, তবুও সেই সমষ্টিগত ফল উচ্চতর গ্রহলোকের সুখের তুলনায় মাত্র এক একক বলে বিবেচিত হয়; যদি তা এই বিশ্ব—ব্রহ্মাণ্ডের সুখের সাথে তুলনা করা হয়, তবে তারা সেই সুখের আপেক্ষিকতা বুঝতে পারবেন।

   ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে সুখের তারতম্য অনুযায়ী সমস্ত গ্রহলোক ক্রমবিন্যাসে ঊর্ধ্ব থেকে নিম্নলোকে সজ্জিত রয়েছে এবং প্রতিটি গ্রহের মধ্যে দশগুণ কম-বেশি সুখের তারতম্যও রয়েছে। কেউ যদি এভাবে ব্রহ্মাণ্ডের উপরের দিকে যেতে থাকেন, তবে তাঁর সুখ শতগুণ বা সহগ্রগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকবে! কেউ যখন ইন্দ্রলোকে পৌঁছাবেন, তখন তিনি এখানে অর্থাৎ এই পৃথিবীলোকে যতটা সুখ অনুভব করেছেন, তার তুলনায় একশত বা এক সহগ্র গুণ বেশি সুখ অনুভব করবেন। আবার কেউ যখন ব্রহ্মলোকে পৌঁছান, তখন তিনি লক্ষ বা কোটিগুণ বেশি সুখ অনুভব করবেন। কেউ যখন নির্বাণ বা মোক্ষ লাভ করেন, তখন তিনি যে সুখ অনুভব করেন, তার তুলনায় এমনকি ব্রহ্মলোকের সুখও একবিন্দুর মতো মনে হয়। মোক্ষ লাভের মহা সুখ তাহলে কতই না উন্নত! কিন্তু কোনো শুদ্ধ ভক্ত, যিনি কৃষ্ণলীলারসের চিন্ময় সুখ আস্বাদন করেছেন, তাঁর সুখের তুলনায় এমনকি এই মোক্ষলাভের সুখসমুদ্রকে সামান্য একটি গোবৎসের পায়ের ছাপে ধারণকৃত জলের (সমতুল্য) সুখের মতো মনে করা হয়।

   এই জগতের মানুষেরা কিঞ্চিৎ পরিমাণ সুখ প্রাপ্তির জন্য সংগ্রাম করছে, কিন্তু একই প্রকার প্রচেষ্টা এবং এমনকি তাদের আন্তরিকতার একাংশ দিয়েও যদি তারা সেই একই প্রচেষ্টা করে, তবে তারা শুদ্ধ ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাশা মতো অসীম চিন্ময় সুখ প্রাপ্ত হতে পারে।

   প্রত্যেকেই প্রতারিত হচ্ছে। দক্ষিণ ভারতে অনেক মানুষই জানেন যে আরো উচ্চতর সুখ রয়েছে। সেখানে আমি এক ব্যক্তির সাথে পরিচিত হয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি এই পার্থিব সুখের প্রতি আগ্রহী নই। আমি জেনেছি যে, এই পৃথিবীর স্ত্রীলোকের তুলনায় স্বর্গের অপ্সরারা আরো সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। তাই আমি স্বর্গলোকে যেতে চাই এবং অপ্সরাদের ভোগ করতে চাই!” আমি ভাবলাম, “তুমি একটা পাগল।”

   দক্ষিণ ভারতীয়রা কর্মকাণ্ডে উৎসাহী। তারা জানেন যে, এই পৃথিবী ভয়ংকর। তাই এই নবীন ভক্তটি বলতে লাগল, “কিন্তু আমি যদি আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করতাম, তাহলে ঠিক হতো কারণ, সেটি স্বর্গলোকের মতো।”

   মানুষের বিভিন্ন মজার ধারণা আছে। অনেক ভারতীয়দের ধারণা, আমেরিকার মানুষরা বোধহয় ‘স্বর্গীয় গ্রহে’ জন্যগ্রহণ করেছেন। কিন্তু আপনারদের এও বুঝতে হবে যে, যদিও একে স্বর্গ বলে মনে করা হয়, এটি আসলে নরকতুল্য!

   অবশ্যই এ পৃথিবী গ্রহের থেকে স্বর্গলোক অনেকটাই ভিন্ন। স্বর্গলোকে দেওয়ার মতো উচ্চতর সুখ রয়েছে, কিন্তু যদি কোনো জীব কোনো প্রকারে সেখানে যেতে পারে, তবে নিশ্চিতভাবে সে স্বর্গলোকের সুখের সাথে আরো ঊর্ধ্বলোকের সুখের তুলনা করবে এবং এই বৈষম্যতার কারণে সেই জীব তখন স্বর্গে থেকেও নিজেকে অসুখী মনে করবে। এটি বিবেচ্য বিষয় নয় যে, ব্যক্তি কতটা মানসম্পন্ন জীবন নির্বাহ করছেন; কেউ যদি এই জড় জগতে বসবাস করে, তবে তার সুখের অভিজ্ঞতা একদম আপেক্ষিক। মন যখন উচ্চ পর্যায়ের সুখের সন্ধান লাভ করে, তখন অন্য যেকোনো মানের সুখই দুঃখরূপে পরিগণিত হয়।

   উদাহরণস্বরূপ, একটি পিঁপড়া মনুষ্য জীবনের মাপকাঠিতে মাত্র দুই বা তিন বছর বেঁচে থাকে। কিন্তু তার হিসাবে সেই দুই বা তিন বছর প্রকৃতপক্ষে একশ বছর জীবন যাপনের মতো। একটি মশা সম্ভবত এক বা দুই দিনের জন্য বেঁচে থাকে, কিন্তু মশাও তার নিজের হিসাবে শত বছর বেঁচে থাকে। শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করেছেন যে, এই সময়ের মধ্যেই ঐ পোকাটি জন্ম, বৃদ্ধি, বংশবিস্তার, কিছু সময়ের জন্য বেঁচে থাকা, বৃদ্ধ হওয়া এবং অবশেষে মৃত্যুমুখে পতিত হওয়া ইত্যাদি এই জীবন চক্রের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করে। অনুরূপভাবে, উচ্চতর গ্রহলোকের জীবনচক্রও হয়তো শত শত বছরের হতে পারে। কিন্তু উচ্চতর গ্রহলোকের বাসিন্দারা ঐ পরিমাণ স্বাচ্ছন্দ্য নাও পেতে পারে, কারণ প্রতিটি জিনিসই তুলনামূলক ভাব সন্নিবেশিত অর্থাৎ আপেক্ষিক। কিন্তু চিন্ময় সুখের কোনো সীমারেখা নেই। চিন্ময় লোকের বাসিন্দাগণ জড় জাগতের এই প্রকার সুখকে অতিক্রম করে চলে যায় এবং নিজেকে পরমপূর্ণ স্তরে উন্নীত করে।

   কেউ হয়তো স্বর্গলোকে বা অন্য কোনো উচ্চতর লোকে বসবাস করতে ইচ্ছা করতে পারে, কিন্তু সে যদি তা লাভ করে, তবু সে সন্তুষ্ট হবে না। লোকে মনে করে, যদি আমি আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করতে পারতাম, আমি সুখী হতাম। তারা এটি মনে করার কারণ হলো মিথ্যা প্রচার। কিন্তু আমরা দেখি যে, আমেরিকা থেকেও, আমেরিকাবাসীদের অসংখ্য জিনিসপত্র থাকা সত্ত্বেও তারা অসুখী। তারা সর্বতোভাবে হতাশায় ভুগছেন কারণ, তারা এখনও সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি

দিল্লি কা লাড্ডু

যাদের সবকিছু আছে এবং যাদের কিছু নেই —  এই উভয় প্রকার ব্যক্তির মধ্যেই বাসনা রয়েছে এবং হতাশাও রয়েছে। শ্রীল প্রভুপাদ এই বিষয়টিকে চিত্রিত করতে দিল্লি কা লাড্ডু নিয়ে একটি গল্প বলেছিলেন। লক্ষ্ণৌতে একটি মিষ্টির দোকান রয়েছে যেখানে তারা খুবই সুস্বাদু মিষ্টি বিক্রয় করেন, যা লাড্ডু নামে পরিচিত। এর বিজ্ঞাপনটি নিম্নরূপ:

এই মিষ্টি এতই আশ্চর্যজনক, যে এর স্বাদ গ্রহণ করেনি তার জীবন মিছে এবং আপনি যদি ইতোমধ্যেই এর স্বাদ গ্রহণ করেও থাকেন, তাহলে আপনি আরো বেশি খেতে চাইবেন না, আর যখন আপনি আরো একটি লাড্ডু খেতে পারবেন না, তখনও সম্পূর্ণভাবে হতাশ হবেন।

   এই ব্যাপারে শ্রীল প্রভুপাদ ব্যাখ্যা করেন যে, এই দিল্লির লাড্ডু যদি খেয়ে থাকেন কিংবা না খেয়ে থাকেন, উভয় ক্ষেত্রেই আপনার জীবন বৃথা, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই আপনি অতৃপ্তই থেকে যাবেন। আপনি যদি একবার এটি আস্বাদন করেন, তখন বারবার এটি আস্বাদন না করেও থাকতে পারবেন না। কেউ যদি লাড্ডুর স্বাদ না নিয়ে থাকে, তার তখন কোনো অর্থ ব্যয় হয় না কিংবা কোনো সময় অপচয় হয় না; সে হয়তো কিছুটা হতাশায় থাকতে পারে, কারণ সে তা আস্বাদন করেনি। কিন্তু যে ব্যক্তি এটি আস্বাদন করেছে, সেও একটু উদ্বেগেই থাকে, কারণ লাড্ডুর জন্য তাঁকে অর্থ দিতে হবে এবং সে স্বাদ গ্রহণ করার পরেও হতাশ হবে, কারণ হলো অপূর্ণ সন্তুষ্টি। যেহেতু লাড্ডু খাওয়ার বা না খাওয়ার শেষ পরিণতি হলো অতৃপ্তি, কাজেই অর্থ অপচয় না করাই ভালো।

   জাগতিক আনন্দও ঠিক এই প্রকারের। আমাদের হয়তো বিভিন্ন প্রকারের কল্পনা থাকতে পারে যে, সুখ আসলে কী? কিন্তু যখন অবশেষে তা প্রাপ্ত হই, দেখা যায় এটি তা নয় যা আমরা চেয়েছিলাম। এভাবে, যখনই আমরা কিছু না কিছু জাগতিক বস্তু লাভের আকাঙ্ক্ষা করি, আমরা মায়াশক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হই। যেমন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (৩.২৭) বর্ণনা করা হয়েছে —

প্রকৃতেঃ ক্রিয়মাণানি গুণৈঃ কর্মাণি সর্বশঃ।

অহংকারবিমূঢ়াত্মা কর্তাহমিতি মন্যতে।।

যখনই আমরা কৃষ্ণসেবার কামনা করি, তখনই আমরা সুভদ্রা দেবীর দৈবিক সুরক্ষায় থাকি। সুতরাং আমরা বেছে নিতে পারি কাকে আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রকরূপে পেতে চাই, কারণ আমরা অবশ্যই হয় জাগতিক কামনার দ্বারা অথবা পারমার্থিক কামনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হব।

সুখের মাপকাঠি এখনই সময়, আমরা জাগ্রত হই

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলছেন —  জীব জাগো জীব জাগো...কত নিদ্রা যাও মায়া পিশাচীর কোলে। অর্থাৎ, “মায়ার কোলে আর কতকাল তুমি ঘুমিয়ে থাকবে? আর কত দীর্ঘ সময় তুমি মায়ার লাথি খেতে চাও?”

   আমরা কেন মায়ার পায়ে জড়িয়ে ধরে থাকি, যখন তিনি লাথি ছাড়া আর কিছু দেন না? আমাদের কেবল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরণে আশ্রয় গ্রহণ করা উচিত, কারণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “আমি বিনা বন্ধু আর কে আছে তোমার?” আমি ছাড়া তোমার পাশে আর কোন বন্ধু আছে?” তিনি এখানে এসেছেন এবং আমাদের মায়ামুক্ত হওয়ার ঔষধি দিয়েছেন; উত্তম ঔষধি, তা হলো হরিনাম। হরিনাম কীর্তনের দ্বারাই কেউ তৎক্ষণাৎ পারমার্থিক জীবনের অমৃত আস্বাদন করতে পারে। যদি আমরা জপ করতে থাকি, একদিন আমরা চিন্ময় সুখ সমুদ্রের অমৃত আস্বাদনের অভিজ্ঞতা লাভ করবই। এমনকি ঐ সুখ সমুদ্রের এক ফোঁটা জল এই জড় জগতের সকল সুখ একত্রিত করার থেকেও মহত্তর, কারণ জড় জগতের সবকিছু খুবই আপেক্ষিক, সবকিছুর মধ্যে দুঃখ এতই মিশ্রিত যে, তা কখনো কাউকে তৃপ্তি দেয় না। পক্ষান্তরে কৃষ্ণের চিন্ময় গুণাবলির উপলব্ধি থেকে প্রাপ্ত একবিন্দু সুখ যেকোনো ব্যক্তিকে সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট করে।

চিন্ময় জ্ঞান এবং সুখ

শিক্ষাষ্টকের প্রথম শ্লোকটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, কেবল শ্রবণ ও কীর্তন করেই চিন্ময় সুখের সমুদ্র ও চিন্ময় জ্ঞান উপলব্ধি করা যায়। এখন আমাদেরই ঠিক করতে হবে, আমরা কাকে সেবা করতে চাই। কারণ আমরা সকলেই কৃষ্ণের নিত্যদাস —  জীবের স্বরূপ হয় কৃষ্ণের নিত্য দাস (চৈ.চ.মধ্য ২০.১০৮)। যাদের সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হয় তারা প্রত্যেকেই কৃষ্ণের দাস। কেউ কেউ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে, বাকিরা অজ্ঞানতায় থাকার ফলে তা বিস্মৃত হয়েছে। এই বিস্মৃত আত্মাগণ যা ভুলে গেছে তা স্মরণ করানোর জন্যই আমরা প্রচারে যাই এবং গ্রন্থ বিতরণ করি। যখন গ্রন্থ বিতরণ করি, আমরা তাদের বলি যে তারা কৃষ্ণের দাস; তবে বর্তমানে তারা মায়ার দাসত্ব করছে এবং তারা মায়াকে যে সেবা নিবেদন করছে তা তাদের জন্মমৃত্যুর চক্রে আবর্তিত করছে। মায়ার সেবা দ্বারা, কেউ অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে এবং কেউ পুনর্জন্মগ্রহণ করবে। কিন্তু কৃষ্ণসেবার দ্বারা, কাউকে মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে হবে না। কৃষ্ণসেবা জীবন দান করে, আর মায়ার সেবা করে মৃত্যু লাভ হয়। ভক্তদের মানুষের প্রতি খুবই করুণাময় বলে বিবেচনা করা হয়, কারণ তাঁরা মানুষকে যা উপহার দিচ্ছেন তা অন্য কেউই পারে না। তা হলো নিত্য জীবন।

   মানুষ মায়ানিদ্রায় আচ্ছন্ন এবং যখন ভক্ত কোনো মানুষকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তোলেন, তিনি তখন আধ্যাত্মিক জীবন শুরু করেন এবং এক নতুন পরিবর্তিত জীবনে প্রবেশ করেন। উদাহরণস্বরূপ, নারদমুনি তাঁর প্রার্থনায় বলেছেন যে, কেবল ভক্তিবেদান্তগণের মহাপ্রসাদের উচ্ছিষ্ট গ্রহণ করেই তাঁর মধ্যে পারমার্থিক জীবন উপলব্ধি করার সামর্থ্য, পারমার্থিক জীবনের প্রতি আসক্তি এবং দিব্যনাম জপের প্রতি রুচি বিকশিত হয়েছে।

   শ্রীল প্রভুপাদ এটিকে মৃদুবিষে আক্রান্ত নামে আখ্যায়িত করেছেন যা প্রয়োগকারীর প্রতি অনুকূলভাবে প্রভাব করে। নিয়মিতভাবে হরিনাম কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ সেবন ক্রমে ক্রমে আমাদের জড় আকাঙ্ক্ষাকে পারমার্থিক আকাঙ্ক্ষায় পরিবর্তিত করে এবং আমাদের চিন্ময় স্তরে উপনীত করে। আমরা তখন স্বাভাবিকভাবেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আসক্ত হই এবং অসীম সুখ ও আনন্দ লাভ করি।

 — হরেকৃষ্ণ

সুখের মাপকাঠি
সুখের মাপকাঠি
ধার্মিকের গুণাবলি কেমন  হওয়া উচিত?
ধার্মিকের গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত?
বৈদিক শাস্ত্রে  তিন মহীয়সী মাতা
বৈদিক শাস্ত্রে তিন মহীয়সী মাতা
সনাতন ধর্মে  পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক সহাবস্থান
সনাতন ধর্মে পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক সহাবস্থান
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে  কীভাবে স্থির থাকবেন?
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে স্থির থাকবেন?
শ্রীজীবের ষট্সন্দর্ভ
শ্রীজীবের ষট্সন্দর্ভ
জগন্নাথের রথযাত্রা  এক বিশ্বজোড়া উৎসব
জগন্নাথের রথযাত্রা এক বিশ্বজোড়া উৎসব
সনাতন ধর্মের  মৌলিক জিজ্ঞাসা
সনাতন ধর্মের মৌলিক জিজ্ঞাসা
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়