বৈদিক শাস্ত্রে  তিন মহীয়সী মাতা
বৈদিক শাস্ত্রে তিন মহীয়সী মাতা
✍ শ্যামানন্দিনী দাসী
১৭ জুলাই ২০২৬
বর্ষ: 2025  |  ইস্যু: ২য় সংখ্যা

বৈদিক শাস্ত্র আমাদের বহু চমৎকার নিঃস্বার্থ, ভক্তিমতি ও আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মাতার দৃষ্টান্ত প্রদান করে থাকে। যেমন,

 —  মাতা সুনীতি (রাজা উত্তানপদের স্ত্রী এবং ধ্রুব মহারাজের  মাতা),

 —  মাতা কুন্তী (রাজা পাণ্ডুর স্ত্রী এবং পাণ্ডবদের মাতা) এবং

 —  মাতা সীতা (ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের স্ত্রী এবং লব—কুশের মাতা)। তাঁরা আমাদের মায়েদের অনুপ্রেরণা এবং পারমার্থিক শক্তি লাভ করার জন্য মহান আদর্শ হিসেবে পরিগণিত হন। এই আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী  মায়েদের সমগ্র জীবন অনেক পরীক্ষা, বিপদ, অপমান, অভিযোগ, অবহেলা এবং এমনকি পরিত্যাগের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। সকল বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের কর্তব্য এবং পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি ভক্তিতে অবিচল ছিলেন।

   তাঁরা তাঁদের সন্তানদের জন্য ভক্তির স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন এবং তাঁদের সন্তানদের ন্যায়পরায়ণ হতে ও ভগবানের প্রতি ভক্তিমার্গে চলতে সহোযোগিতা করেছিলেন। তাঁদের চমৎকার কার্যকলাপ ও গুণাবলির ধ্যান এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা নিবেদন করলে, জীবনের সকল চড়াই উৎরাইয়ের মাঝেও আমরা মা হিসেবে আমাদের সন্তানদের কৃষ্ণভাবনায় গড়ে তুলতে অনেক শক্তির অধিকারী হতে পারি।

মাতা সুনীতি: শ্রীমদ্ভাগবতে আমরা রানী সুনীতির মহিমান্বিত দৃষ্টান্ত দেখতে পাই, তাঁর পাঁচ বছরের শিশুপুত্র ধ্রুবকে তার বিমাতা সুরুচির দ্বারা অপমানিত এবং তার পিতা উত্তানপাদের দ্বারা অবহেলিত হওয়ার পর যদিও তিনি ব্যথিত হয়েছিলেন, তবুও তিনি ধ্রুবকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং তাকে পরম করুণাময় ভগবানের শরণাগত হয়ে তাঁর আরাধনা করার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। এটি শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক শ্রীমদ্ভাগবতে (৪.৮.২২) খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে নিম্নোক্ত উদ্ধৃতিতে — “এই প্রসঙ্গে রানী সুনীতি তাঁর পুত্রকে উপদেশ দিয়েছেন যে, পরমেশ্বর ভগবান ভৃত্য—বৎসল নামে পরিচিত, যা ইঙ্গিত করে যে, তিনি তাঁর ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বলেছেন, “তুমি তোমার বিমাতার দ্বারা অপমানিত হয়ে, ক্রন্দন করতে করতে আমার কাছে এসেছ, কিন্তু তোমার জন্য ভালো কিছু করার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু কৃষ্ণ তাঁর ভক্তের প্রতি এতই কৃপাময় যে, তুমি যদি তাঁর কাছে যাও, তাহলে দেখবে যে. তাঁর স্নেহপূর্ণ বিনম্র ব্যবহার আমাদের মতো কোটি—কোটি মায়ের বাৎসল্যকেও অতিক্রম করে। কেউই যখন দুঃখ—দুর্দশার নিবৃত্তি সাধন করতে পারে না, তখন কৃষ্ণই কেবল তাঁর ভক্তদের সাহায্য করতে পারেন।”

   রানী সুনীতি ধ্রুবর আবেগ ও আঘাতকে স্নেহপূর্বক গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এই পরিস্থিতিতে নিজের বিবশতা স্বীকার করেছিলেন। তারপর তিনি তার পুত্রকে পরম করুণাময় ভগবানের কৃপা ভিক্ষা করার নির্দেশ প্রদান করেন যা লক্ষ লক্ষ মায়ের কৃপার সমতুল্য, যা সমুদ্রসম।

   মা হিসেবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সন্তানদের সাহায্য করতে চাই, তবু কিছু পরিস্থিতিতে আমরা তা করতে অক্ষম হয়ে পড়ি। এসকল পরিস্থিতিতে আমাদের আশাহত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এর পরিবর্তে, রানী সুনীতি যা করেছিলেন, আমরা সেই পন্থা অবলম্বন করতে পারি।

   আমাদের সন্তানরা যখন আমাদের কাছে এসে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে, আমরা তখন তাঁর মতো সহানুভূতির সাথে তাদের কথা শুনতে পারি। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে পারি। এমনকি যখন আমরা তাদের সমস্যা সমাধান করতে নিজেদের অক্ষমতা খুঁজে পাই, তখন আমরা আমাদের অসহায়ত্ব স্বীকার করতে পারি এবং আমাদের সন্তানদের ভগবানের আশ্রয় গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে পারি।

   এভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের সর্বোত্তম পরামর্শ এবং সহায়তা করতে পারি। প্রথমত ও প্রধানত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশ্রয় গ্রহণ করে এবং তারপর আমাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যা প্রয়োজন ও বাস্তবসম্মত, তা করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদের শক্তিশালী করতে পারি। ফলস্বরূপ, আমরা অন্যের করা বহু অপমান ও অবহেলার ঊর্ধে যেতে পারি।

মাতা কুন্তী: মহাভারতে পারমার্থিক শক্তির অধিকারী আরেকজন মহীয়সী মাতার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। মহিমান্বিত পাণ্ডবদের মাতা শ্রীমতি কুন্তী দেবী আমাদের দেখিয়েছেন, কীভাবে জীবনের অগণিত চরম বিপর্যয়ের মাঝেও ভগবানের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি তাঁর পুত্রদের নিয়ে বহু অবিচার এবং ক্ষমতালোভী দুর্যোধনের কাছ থেকে পাওয়া বহু বিপদ সহ্য করেছিলেন। কুন্তী দেবী ও পাণ্ডবদের হত্যা করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। এ ধরনের আক্রমণের মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, তিনি ও তাঁর পুত্ররা পরমেশ্বর ভগবানের প্রতি ভক্তিতে একনিষ্ঠ  ছিলেন। তাঁদের মুখোমুখি হওয়া প্রতিটি অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে তারা সর্বদা পরমেশ্বর ভগবানের আশ্রয় গ্রহণ করতেন এবং এভাবে তাঁরা দৈব সুরক্ষা লাভ করতেন।

   মাতা কুন্তীর সুন্দর প্রার্থনার সার সংকলন হলো ভগবানের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও ভালোবাসা, যেখানে তিনি দুর্ভোগকে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি খুবই আশ্চর্যজনক! তিনি এমন প্রার্থনা করেছেন কারণ, তিনি ভাবতেন —  এই দুর্ভোগের সময়ই তিনি ভগবানের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে থাকতে পারেন। তখন তাঁর এবং তাঁর পুত্রদের জীবনে ভগবানের একান্ত উপস্থিতি এবং ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ তিনি পেতেন। তিনি প্রার্থনা করেছেন —  “হে কৃষ্ণ, পরমেশ্বর শ্রীহরি, বিষ, মহা অগ্নি, নরখাদক রাক্ষস, পাপচক্রান্তময় সভা, বনবাসের দুঃখ—কষ্ট থেকে এবং যুদ্ধে বহু মহারথীর প্রাণঘাতক অস্ত্রসমূহ থেকে তুমি আমাদের পরিত্রাণ করেছো। আর এখন অশ্বত্থামার ব্রহ্মাস্ত্র থেকে তুমি আমাদের রক্ষা করলে। হে জগদীশ্বর,  আমি কামনা করি যেন সেই সমস্ত সঙ্কট বারবার উপস্থিত হয়, যাতে বারবার আমরা তোমাকে দর্শন করতে পারি। কারণ তোমাকে দর্শন করলেই আমাদের আর জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে না বা এই সংসার চক্র দর্শন করতে হবে না।” (শ্রীমদ্ভাগবত ১.৮.২৪-২৫)। (কুন্তী দেবীর মতো বিনয়ী অথচ আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী মহীয়সী নারীর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমরাও অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারি এবং জীবনের প্রতিকূলতাসমূহ প্রতিরোধ করার জন্য ভগবানের সুরক্ষা ও দিব্য হস্তক্ষেপের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে পারি। রানী কুন্তী যদিও একজন বিধবা ছিলেন, তবু তিনি তাঁর বুদ্ধিমত্তা এবং পরম পুরুষোত্তম ভগবানের প্রতি ভক্তি নিবেদনের মাধ্যমে পুত্রদের পরাক্রমশালী যোদ্ধা এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তরূপে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

   আমরা মা হিসেবে আমাদের সন্তানদের প্রতিপালনের জন্য এধরনের বুদ্ধিমত্তা এবং ভক্তির জন্য তাঁর নিকট প্রার্থনা করতে পারি এবং এভাবে পরমেশ্বর ভগবানের প্রতিপালনের মাধ্যমে আমরা নিজেরা এবং আমাদের সন্তানেরা শক্তির অধিকারী হতে পারি।

মাতা সীতা: রামায়ণ নামে পরিচিত আরেকটি মহান শাস্ত্রগ্রন্থে আমরা ভগবান শ্রীরামের ভক্তিমতি স্ত্রী এবং লব ও কুশের মাতা সীতা দেবীর কথা জানতে পারি। সীতা দেবীর মহৎ গুণাবলি এবং অসাধারণ দৃষ্টান্ত আমাদের অনুসরণীয়। রাজ পরিবারে বেড়ে উঠলেও তিনি স্বেচ্ছায় পতির সেবা করার জন্য বনে গিয়ে কঠোর নির্বাসিত জীবন গ্রহণ করেছিলেন। তিনি শুধু বনজীবনের কষ্টই গ্রহণ করেননি, তিনি ভগবান শ্রীরামের প্রতি শুদ্ধচিত্তে নিবেদিত ছিলেন। সতীত্বের সাথে পতির সেবা করার এই গুণের অভিলাষ বিকশিত করাই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যতই বিলাসবহুল, দারিদ্র্য বা এই দুই—এর মাঝে যেকোনোটিতেই অবস্থান করি না কেনো, আমাদের জন্য যা বরাদ্দ রয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট থাকা উচিত এবং আনন্দের সাথে আমাদের পতি ও পরিবারকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি প্রেমময় উপহার স্বরূপ সেবা করা উচিত।

   যখন সীতা দেবীকে অসুর রাবণ অপহরণ করেছিল, তিনি নিজের পবিত্রতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি সর্বদা ভগবান শ্রীরামের প্রতি নিবেদিত থেকে, নিজের সতীত্ব বজায় রেখে এই কাজটি করেছিলেন। রাবণ তাঁকে সকল ধরনের লোভনীয় জিনিস দিতে চেয়েছিল; যেমন, ধন—সম্পদ এবং তাঁর প্রধান রানীর পদমর্যাদা; তথাপি সীতা দেবী এসকল প্রলোভনে বিভ্রান্ত হননি। সীতা দেবীর এই সদগুণাবলি অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করতে পারি। এখানে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভগবানের মায়াশক্তিরূপ রাবণের দ্বারা উপস্থাপিত প্রলোভন থেকে আমরা নিজেদের রক্ষা করতে পারি। আমরা সীতা দেবীর কাছে আমাদের এই জীবনের স্বামী এবং আমাদের চিরন্তন স্বামী পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি, সতীত্ব এবং ভক্তি লাভের হেতু এমন অভ্যন্তরীণ শক্তির জন্যও প্রার্থনা করতে পারি।

   একবার এক স্থানীয় ধোপার দোষারোপে সীতা দেবীকে বনবাসে পাঠানো হয়। এত সমালোচনা এবং মিথ্যা অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি ভগবানের প্রতি ভক্তিতে সুদৃঢ় ছিলেন। গভীর মনস্তাপে দুঃখ পেয়েও তিনি ঋষি বাল্মিকীর আশ্রমে আশ্রয় গ্রহণ করেন। ঋষি তাঁর আশ্রমের তপস্বী রমণীদের মাধ্যমে সীতা দেবীর তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এই স্থানেই তাদের তত্ত্বাবধানে তিনি তাঁর পুত্রদের জন্ম দিয়েছিলেন এবং পুত্রদের গড়ে তুলেছিলেন।

   রামায়ণে বর্ণিত রয়েছে, সীতা দেবীকে বনে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি যে উক্তিসমূহ করেছিলেন, সেগুলো আমাদের কাছে তাঁর মাহাত্ম্যপূর্ণ চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। যেমন,  তিনি বেদনায় কাঁপতে কাঁপতে একটি বৃক্ষকে আঁকড়ে ধরে লক্ষ্মণকে বলেছিলেন “হে পুরুষব্যাঘ্র, তাহলে অযোধ্যায় গমন করো এবং আমাকে এখানে ছেড়ে যাও। আমার সকল জ্যেষ্ঠদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর, কৃপা করে আমার প্রভুকে বলবে —  “হে রাঘব, আপনি সর্বদা এরূপে আচরণ করবেন যেন আপনার অতুলনীয় কীর্তি বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে সুনিশ্চিত হয়। আমার ত্যাগ নিশ্চয়ই আপনাকে অপবাদ থেকে সুরক্ষা প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয়। যদিও এখন আমি শোকে বিদীর্ণ, তবু ক্রোধান্বিত নই। একজন সতীসাধ্বী স্ত্রীর নিকট তার স্বামী হলেন প্রভু, দেবতা এবং গুরু।”

   এখানে আমরা ভগবানের প্রতি শ্রীমতি সীতা দেবীর ভালোবাসার গভীরতা দেখতে পাই। যেহেতু তিনি গর্ভবতী ছিলেন, জঙ্গলে ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি দুর্বল ছিলেন, তবুও তিনি তাঁর প্রতি কোনো বিদ্বেষ ধরে রাখেননি।

   এজন্য তিনি এটিও সুনিশ্চিত করেছিলেন যে, তাঁর পুত্ররাও যেন তাদের পিতার প্রতি কোনো কঠোর মনোভাব পোষণ না করে। বরং, তিনি তাঁর পুত্রদেরকে ভগবান শ্রীরামের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে বড় করে তুলেছিলেন।

   এই বিষয়টি আমাদের মায়েদের খুব গুরুত্বের সাথে বোঝা এবং প্রয়োগ করা উচিত। সীতাদেবীর ভগবান শ্রীরামের প্রতি যেরূপ পরম শ্রদ্ধা ছিল, তেমনটি আমাদের স্বামীর প্রতি থাকার মাধ্যমে আমরাও আমাদের সন্তানদের তাদের পিতার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধার চেতনায় বড় করতে পারি। এভাবে আমরা পারমার্থিকভাবে শক্তিশালী হতে পারি এবং ভগবানের সন্তুষ্টি বিধান করতে পারি। মাতা সীতার নিকট প্রার্থনা নিবেদনের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বামীর প্রতি তেমনই শ্রদ্ধা এবং সেবার নৈপুণ্যতা বিকশিত করতে পারি, আমরা নিজেদের এবং আমাদের সন্তানদেরকে কৃষ্ণভাবনার জন্য প্রয়োজনীয় বহু চমৎকার গুণাবলির দ্বারা শক্তিশালী করতে পারি।

   অনেক সময় জীবন আমাদের এমন পরিস্থিতিতে ফেলে যেখানে আমাদের কোনো আশ্রয়, সুরক্ষা, নির্দেশিকা, অর্থ, সহায়তা ইত্যাদি থাকে না। কখনো কখনো আমাদের অপমানিত, প্রতারিত, অসম্মানিত বা অবহেলিত হতে হয়। এধরনের কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময়, আমাদের পক্ষে বোঝা খুব কঠিন হতে পারে যে কোন পথটি সঠিক। সেরূপ অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে, আমরা সর্বদা এই পারমার্থিকভাবে শক্তিশালী মাতাগণ যেমন, রানী সুনীতি, কুন্তী দেবী এবং মাতা সীতার মতো আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মায়েদের নিকট   শক্তি, বুদ্ধি এবং নির্দেশিকার জন্য প্রার্থনা নিবেদন করতে পারি।  তাঁদের অনুগ্রহ ও শক্তি লাভের মাধ্যমে আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে একটি কৃষ্ণভাবনাময় মনোভাব এবং দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা সহ্য করতে পারি। এটি আমাদের নির্মলতা এবং আত্মবিশ্বাস অর্জনে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে, যেন আমরা তাঁদের মতো করে আমাদের সন্তানদের গড়ে তুলতে পারি।  — হরেকৃষ্ণ

যোগ ও আসন কি একই?

ভাষান্তর: রাজেশ রায়

সুখের মাপকাঠি
সুখের মাপকাঠি
ধার্মিকের গুণাবলি কেমন  হওয়া উচিত?
ধার্মিকের গুণাবলি কেমন হওয়া উচিত?
বৈদিক শাস্ত্রে  তিন মহীয়সী মাতা
বৈদিক শাস্ত্রে তিন মহীয়সী মাতা
সনাতন ধর্মে  পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক সহাবস্থান
সনাতন ধর্মে পরমতসহিষ্ণুতা ও সামাজিক সহাবস্থান
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে  কীভাবে স্থির থাকবেন?
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কীভাবে স্থির থাকবেন?
শ্রীজীবের ষট্সন্দর্ভ
শ্রীজীবের ষট্সন্দর্ভ
জগন্নাথের রথযাত্রা  এক বিশ্বজোড়া উৎসব
জগন্নাথের রথযাত্রা এক বিশ্বজোড়া উৎসব
সনাতন ধর্মের  মৌলিক জিজ্ঞাসা
সনাতন ধর্মের মৌলিক জিজ্ঞাসা
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
মহাত্মাদের উৎপীড়নের পরিণাম
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়
একাদশী কেবল বিধবাদের জন্য নয়