বর্ষ: 2025 | ইস্যু: ২য় সংখ্যা
ত্রিতাপ
দুঃখ উপস্থিত হলেও যাঁর মন উদ্বিগ্ন হয় না, সুখ উপস্থিত হলেও যাঁর স্পৃহা হয় না এবং
যিনি রাগ, ভয় ও ক্রোধ থেকে মুক্ত, তিনিই স্থিতধী অর্থাৎ স্থিতপ্রজ্ঞ। জড় জগতে যিনি
সমস্ত জড় বিষয়ে আসক্তি রহিত, যিনি প্রিয় বস্তু লাভে আনন্দিত হন না এবং অপ্রিয় বিষয়
উপস্থিত হলেও দ্বেষ করেন না, তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
কে প্রকৃত ধার্মিক এবং কে
ধার্মিক নয়, সে বিষয়ে সকল সংশয় নিরসনের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসার মাধ্যমে
অর্জুন শ্রীকৃষ্ণকে তা ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা হচ্ছে অর্জুন ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের
মধ্যকার কথপোকথন। অজুর্ন ছিলেন দিব্য প্রতিভাধর যোদ্ধা এবং শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান
হয়েও অর্জুনের রথের সারথি হয়েছেন। অর্জুনকে অধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আগ্রহী করার
লক্ষ্যে কৃষ্ণ গীতার জ্ঞান প্রদান করেন। অর্জুনকে সমস্ত প্রকার পারমার্থিক ও জাগতিক
উপদেশ দেওয়ার ছলে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্ম, আত্মতত্ত্ব, পরমতত্ত্ব, যোগের উদ্দেশ্য,
পরিবেশ কীভাবে আমাদের চেতনাকে প্রভাবিত করে এবং জীবনের পরম সিদ্ধি কীভাবে লাভ করা যায়
— এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।
অর্জুনের
প্রশ্ন
সংশয়
দূর করার জন্য শ্রীকৃষ্ণকে অর্জুন প্রায়ই বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন। এমনই একটি
জিজ্ঞাসা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ২য় অধ্যায়ের ৫৪ নং শ্লোকে রয়েছে।
স্থিতপ্রজ্ঞস্য
কা ভাষা সমাধিস্থস্য কেশব।
স্থিতধীঃ
কিং প্রভাষেত কিমাসীত ব্রজেত কিম্।।
অর্জুন জিজ্ঞেস করলেন — হে কেশব, স্থিতপ্রজ্ঞ অর্থাৎ অচলা বুদ্ধিসম্পন্ন
মানুষের লক্ষণ কী? তিনি কীভাবে কথা বলেন, কীভাবে অবস্থান করেন এবং কীভাবেই বা তিনি
বিচরণ করেন?
এ ধরনের প্রশ্ন কেবল ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণের বিষয়কেই
ইঙ্গিত করে। কিন্তু শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর এসকল প্রশ্নের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য
তাঁর ভাষ্যে প্রকাশ করেছেন। শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্য শ্রীভুরিজন দাসের লেখা ‘আমার শরণাগত
হও’ গ্রন্থের বিশদ ব্যাখ্যায় দেখা যায়, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের প্রশ্নের প্রতিটি
অংশের উত্তর বিস্তারিতভাবে প্রদান করেছেন। এই প্রবন্ধের অধিকাংশই ঐ বইয়ের ব্যাখ্যা
থেকে সংগৃহীত হয়েছে যা নিচে উদ্ধৃতি চিহ্ন (“”) দিয়ে দেখানো হয়েছে।
অর্জুনের
প্রশ্নকে নিম্নোক্ত চার ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
১)
স্থিতপ্রজ্ঞ মানুষের লক্ষণ কী কী?
২)
তিনি কীভাবে কথা বলেন?
৩)
তিনি কীভাবে অবস্থান করেন?
৪)
তিনি কীভাবে বিচরণ করেন?
শ্রীকৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ অর্জুনের প্রথম প্রশ্নের উত্তর
দেন (ভ.গী.২.৫৫): “হে পার্থ, জীব যখন মানসিক জল্পনা—কল্পনা থেকে উদ্ভূত সমস্ত মনোগত
কাম পরিত্যাগ করে এবং তার মন যখন এভাবে পবিত্র হয়ে আত্মাতেই পূর্ণ পরিতৃপ্তি লাভ করে,
তখনই তাকে স্থিতপ্রজ্ঞ বলা হয়।”
“স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যক্তির অবস্থানে কোনো প্রকার জড়
আসক্তি থাকে না। তিনি সুখ ও দুঃখ উভয়ের প্রতিই অনাসক্ত। তিনি আত্মাতেই পূর্ণ পরিতৃপ্তি
লাভ করেন।” অন্যভাবে বলা যায়, তিনি ধীর।
উদ্বেগজনক
পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া
অর্জুনের
দ্বিতীয় প্রশ্নে কৃষ্ণের উত্তর: তিনি কীভাবে কথা বলেন? এই প্রশ্নের মানে হচ্ছে — অন্যের ভালোবাসায়, ক্রোধে বা নিরপেক্ষতায় তার বুদ্ধি
বা কথা বলার ধরনে কতটা প্রভাব পড়ে? অন্যভাবে বলা যায়, তখন তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া
করেন?”
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (২.৫৬-৫৭) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
বলেন — “ত্রিতাপ দুঃখ উপস্থিত হলেও যাঁর মন
উদ্বিগ্ন হয় না, সুখ উপস্থিত হলেও যাঁর স্পৃহা হয় না এবং যিনি রাগ, ভয় ও ক্রোধ থেকে
মুক্ত, তিনিই স্থিতধী অর্থাৎ স্থিতপ্রজ্ঞ। জড় জগতে যিনি সমস্ত জড় বিষয়ে আসক্তি রহিত,
যিনি প্রিয় বস্তু লাভে আনন্দিত হন না এবং অপ্রিয় বিষয় উপস্থিত হলেও দ্বেষ করেন না,
তিনি পূর্ণ জ্ঞানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।” শ্রীল প্রভুপাদ একজন পরমার্থবাদীর গুণ তাঁর তাৎপর্যে
বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন — “এধরনের কৃষ্ণভাবনাময়
ভগবদ্ভক্তকে জড় জগতের ত্রিতাপ ক্লেশের কোনো আক্রমণই আর বিচলিত করতে পারে না। কারণ,
তিনি সবরকমের দুঃখ-দুর্দশাকে ভগবানের আশীর্বাদ বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন, তাঁর পূর্বকৃত
অসৎ কর্মের ফলস্বরূপ আরো দুঃখ-দুর্দশা তাঁর একমাত্র প্রাপ্য, কিন্তু ভগবানের অহৈতুকী
করুণার ফলে তাঁর সুখানুভূতি হয়, তখন তিনি নিজেকে সেই সুখের অযোগ্য বলেই মনে করেন;
তিনি ভাবেন, ভগবানের কৃপাতেই তিনি ঐ রকম সুখপ্রদ অবস্থায় রয়েছেন।”
কেউ ভালোবাসলে তাকে ভালোবাসা খুব সহজ। এমনকি কোনো
অপরিচিত ব্যক্তিও যদি ‘হায়’ বা ‘হ্যালো’ বলে আমাদের অভিবাদন করে, তাতে আনন্দের সাথে
সাড়া দেওয়া সহজ। কিন্তু এতে আমাদের স্থিতি কেমন, তাদের সাথে কেমন কথা বলার ধরন বা
আমাদের কেমন প্রতিক্রিয়া তা প্রকাশ পায় না। আমাদের কথায় কতটা মিষ্টতা রয়েছে তা
বোঝা যায়, যখন কেউ মানসিকভাবে আমাদের আঘাত করে। তখন আমরা কী নিরব থাকি নাকি সাথে সাথেই
কড়া জবাব দিয়ে বসি? আমরা কী এমন অসহনীয় মূহুর্তে খুব বাজেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই?
আমাদের সাথে যারা শত্রুতা করতে চায়, তাদের সাথেও
আমাদের শান্ত হয়ে কথা বলা শিখতে হবে। এতে তিক্ত সম্পর্কও মধুর হয়ে উঠবে। কারো শান্ত
প্রতিক্রিয়া সুন্দর সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।
একসময় এক ব্যক্তি টিয়া পাখি কেনার জন্য পাখি
বিক্রেতার কাছে যান। পাখি বিক্রেতা বলেন, “আপনার জন্য আমার কাছে একটি ভালো টিয়া পাখি
আছে। আপনি যদি তার এক পা ধরে টানেন, সে কৃষ্ণ বলে ডাক দেবে এবং যদি তার অন্য পা ধরে
টানেন, সে রাম নাম উচ্চারণ করবে।” লোকটি সেই সাধু প্রকৃতির টিয়া পাখিটির গুণে মুগ্ধ
হয়ে তখনই পাখিটি কিনে নেন। যখন তার গৃহে কোনো অতিথি আসে, তখন তিনি গর্ব করে তাদের
সেই পাখি দেখিয়ে এর মুখ থেকে পবিত্র কৃষ্ণ ও রাম নাম শোনান।
একদিন লোকটি ভাবে, “যদি টিয়া পাখিটির একেকটি পা
পৃথকভাবে টানলে পবিত্র নাম জপ করতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত যে, যদি তার উভয় পা একসাথে
ধরে টানা হয়, তবে সে সম্পূর্ণ হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রটি উচ্চারণ করবে”। যখন সে টিয়া পাখির
কাছে গিয়ে তার দুই পা ধরে টান দিল, পাখিটি চিৎকার করে বলে উঠল, “ওরে বোকা, তোমার আক্কেল
জ্ঞান নেই, এমনভাবে টানলে আমি পড়ে যাব না? তখন আমার মাথাটাই ফেঁটে যাবে!”
এই গল্প থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করি — কৃত্রিম ভদ্রতা বেশিদিন টিকে না। আমাদের বুঝেশুনে
প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, বিশেষ করে আমাদের বাক্য সংযত হওয়া উচিত, তা ভালো কিংবা
মন্দ উভয় পরিস্থিতিতেই। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (১৭.১৫) উপদেশ
প্রদান করেন, “অনুদ্বেগকর, সত্য, প্রিয় অথচ হিতকর বাক্য হলো বাচিক তপস্যা।”
সংযত আচরণ
অর্জুনের
পরবর্তী প্রশ্ন — তিনি কীভাবে অবস্থান করেন?
শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুরের মতে, এর অর্থ হচ্ছে, “তিনি কীভাবে তার ইন্দ্রিয়সমূহকে
কোনোকিছুতেই অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার না করে থাকেন? যখন তার ইন্দ্রিয়সমূহ ইন্দ্রিয়ের
বিষয় ভোগ থেকে বিরত থাকে, তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন থাকে? এর উত্তরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পরবর্তী দু’টো শ্লোকে (২.৫৮-৫৯) বলেন — “কূর্ম যেমন তার অঙ্গসমূহ কঠিন বহিরাবরণের মধ্যে
সংকুচিত করে, তেমনই যে ব্যক্তি তাঁর ইন্দ্রিয়গুলোকে ইন্দ্রিয়ের বিষয় থেকে প্রত্যাহার
করে নিতে পারেন, তাঁর চেতনা চিন্ময় জ্ঞানে অধিষ্ঠিত। দেহবিশিষ্ট জীব ইন্দ্রিয়সুখ
ভোগ থেকে নিবৃত্ত হতে পারে, কিন্তু তবুও ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের আসক্তি থেকে যায়। কিন্তু
উচ্চতর স্বাদ আস্বাদন করার ফলে তিনি সেই বিষয়তৃষ্ণা থেকে চিরতরে নিবৃত্ত হন।”
কারো ইন্দ্রিয় সংযমের সক্ষমতা কেমন তা বোঝা যায়
যখন তিনি কোথাও একা অবস্থান করেন। জনসমক্ষে ভদ্রতা দেখানো সহজ, কিন্তু সত্যিকারের সাধু
জনসমক্ষে বা নির্জন স্থান উভয় স্থানেই তার সাধুতা বজায় রাখেন। আজকাল কাউকে কিছুসময়ের
জন্য একা ছেড়ে দিন, দেখবেন তিনি ইন্টারনেটের জালে আটকে গেছেন। আর এভাবে জালে আটকে
যাওয়া শুরু হয় প্রতিদিনের খবর ও বিনোদনমূলক ভিডিও দেখার মাধ্যমে এবং শেষ হয় একগাদা
বাজে অভিজ্ঞতা নিয়ে। হয়ত শুরু করার পূর্বে এমন কোনো পরিকল্পনা তার থাকে না। অবসর
সময়গুলো কাটানো উচিত কেবল নিজেকে চাপ মুক্ত করার জন্য, আমাদের চেতনাকে কলুষিত করার
জন্য নয়। কেননা অবসর সময় নিজেদের অশান্ত বা উত্তেজিত না করে বরং প্রশান্তি বাড়াতে
সহযোগিতা করা উচিত। (আমরা যদি আমাদের ইন্দ্রিয়গুলোকে সত্যিই সংযত করতে চাই তাহলে ইন্দ্রিয়গুলোকে
শারীরিক যোগ, মন্ত্র ধ্যান বা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মতো পবিত্র শাস্ত্রগ্রন্থাদি অধ্যয়নে
নিযুক্ত করতে পারি। এর ফলে, ইন্দ্রিয়সকল সংযত হবে এবং মনও শুদ্ধ হবে।
বিক্ষিপ্ত মনের ঔষধ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার
২য় অধ্যায়ের ৬৪নং শ্লোক থেকে শুরু করে অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের
শেষ প্রশ্নের উত্তর দেন — “তিনি কীভাবে বিচরণ
করেন?” — এই প্রশ্নের তাৎপর্য হচ্ছে: “ব্যক্তি
কীভাবে তার ইন্দ্রিয়গুলোকে পারমার্থিক বিষয়ে নিযুক্ত করেন?”
ভগবান
বলেন — “সংযতচিত্ত মানুষ প্রিয় বস্তুতে স্বাভাবিক
আসক্তি এবং অপ্রিয় বস্তুতে স্বাভাবিক বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়ে, তাঁর বশীভূত ইন্দ্রিয়ের
দ্বারা ভগবদ্ভক্তির অনুশীলন করে ভগবানের কৃপা লাভ করেন। চিন্ময় চেতনায় অধিষ্ঠিত হওয়ার
ফলে তখন আর জড় জগতের ত্রিতাপ দুঃখ থাকে না; এভাবে প্রসন্নতা লাভ করার ফলে বুদ্ধি শীঘ্রই
স্থির হয়।”
‘স্থির হওয়া’ মানে, কৃষ্ণভাবনার মাধ্যমে জীবকে
কৃষ্ণের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা। এমন স্থিতিতে তিনি জড় আসক্তি থেকে মুক্ত হন এবং তাতে
বৈরাগ্য আসে এবং তখন তিনি সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট হন। “ভক্তি ব্যতীত, আমাদের যত সম্পদই
থাকুক বা যত বড় কিছুই করি না কেন, আমরা কেউই সন্তুষ্ট হতে পারি না।”
এরপর শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় (৯.১৪) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
উন্নত স্তরের পরমার্থবাদীগণ কী করেন তা বলেছেন — “দৃঢ়ব্রত ও যত্নশীল হয়ে, সর্বদা আমার মহিমা কীর্তন
করে এবং আমাকে প্রণাম করে, এই সমস্ত মহাত্মারা নিরন্তর যুক্ত হয়ে ভক্তি সহকারে আমার
উপাসনা করে।” ‘সতত’ অর্থাৎ ‘নিরন্তর’ শব্দটি এখানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়ন্ত্রিত
মনও যদি সর্বক্ষণ কোনোকিছুতে যুক্ত না থাকে, সেই মনও অনিয়ন্ত্রিত হয়ে জীবকে অধঃপতনের
দিকে নিয়ে যায়। বৈদিক শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, বিক্ষিপ্ত মনের জন্য উত্তম
ঔষধ হচ্ছে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র নাম জপ করা। ভগবানের পবিত্র নাম মনকে
ভগবদ্ চিন্তায় যুক্ত করে জীবের পূর্বকৃত পাপের প্রভাবে মনের যে কলুষতা তা বিধৌত করে।
পরিশেষে বলা যায়, এভাবে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ
স্থিতপ্রজ্ঞ পরমার্থবাদীর আভ্যন্তরীণ লক্ষণসমূহ উদ্ধৃত করে সংশয়গ্রস্ত অর্জুনের সকল
প্রশ্নের যথার্থ উত্তর প্রদান করেন।
—
হরেকৃষ্ণ
ভাষান্তর: তপ্তকাঞ্চন নিত্যানন্দ দাস