ভগবানের অসংখ্য অবতারের মধ্যে নৃসিংহদেব অন্যতম। তাঁর দিব্য শরীর মানুষের আকৃতির, কিন্তু তাঁর মস্তক সিংহের মতো। তাই তিনি নরসিংহ বা নৃসিংহ নামে অভিহিত। নৃসিংহদেবের এক মহান ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজ তার পিতা হিরণ্যকশিপুকে বলেছিলেন যে, ভগবান সর্বত্র আছেন, এমনকি স্তম্ভেও তিনি রয়েছেন। ‘হিরণ্য’ অর্থ স্বর্ণ, ‘কশিপু’ মানে কোমল শয্যা; অর্থাৎ হিরণ্যকশিপু জড় ভোগ, অশুভ বাসনা ও মিথ্যা অহংকারের প্রতীক। সে ছিল অসুরদের রাজা। তাই ভক্ত প্রহ্লাদের কথা সে বিশ্বাস করেনি। তখন প্রহ্লাদের সেই বাক্য সত্য প্রমাণিত করতে ভগবান নরসিংহদেব স্তম্ভ থেকে প্রকাশিত হয়েছিলেন। ভগবান এমন অদ্ভুত রূপে কেন প্রকাশিত হলেন?
ভগবানের অসংখ্য অবতারের মধ্যে নৃসিংহদেব অন্যতম। তাঁর দিব্য শরীর মানুষের আকৃতির, কিন্তু তাঁর মস্তক সিংহের মতো। তাই তিনি নরসিংহ বা নৃসিংহ নামে অভিহিত। নৃসিংহদেবের এক মহান ভক্ত প্রহ্লাদ মহারাজ তার পিতা হিরণ্যকশিপুকে বলেছিলেন যে, ভগবান সর্বত্র আছেন, এমনকি স্তম্ভেও তিনি রয়েছেন। ‘হিরণ্য’ অর্থ স্বর্ণ, ‘কশিপু’ মানে কোমল শয্যা; অর্থাৎ হিরণ্যকশিপু জড় ভোগ, অশুভ বাসনা ও মিথ্যা অহংকারের প্রতীক। সে ছিল অসুরদের রাজা। তাই ভক্ত প্রহ্লাদের কথা সে বিশ্বাস করেনি। তখন প্রহ্লাদের সেই বাক্য সত্য প্রমাণিত করতে ভগবান নরসিংহদেব স্তম্ভ থেকে প্রকাশিত হয়েছিলেন।
ভগবান এমন অদ্ভুত রূপে কেন প্রকাশিত হলেন?
ভগবানের সমস্ত রূপই নিত্য। তবে এজগতে বিভিন্ন ঘটনাকে নিমিত্ত করে তিনি তাঁর বিভিন্ন নিত্যরূপ প্রকাশ করেন। সত্যযুগে একসময় ব্রহ্মার তপস্যা করে হিরণ্যকশিপু বর লাভ করেছিল যে, মাটিতে, আকাশে, ঘরে বা বাইরে, দিনে বা রাতে তার মৃত্যু হবে না এবং কোনো পশু, মানুষ, দেবতা, রাক্ষস এমনকি কোনো অস্ত্র দ্বারাও তার মৃত্যু হবে না। ফলে সে নিজেকে অমর ভেবে বড্ড অহংকারী হয়ে ভগবানকেই অবজ্ঞা করতে লাগলো। সে নিজেকে ভগবান ভেবে বিষ্ণুর আরাধনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে লাগলো। এমনকি নিজের পুত্র প্রহ্লাদ বিষ্ণুভক্ত হওয়ায় সে তার পুত্রকে পর্যন্ত হত্যা করতে চেয়েছিল। তখন ভগবান নরসিংহ রূপে প্রকটিত হয়েগোধূলি সময়ে বাড়ির চৌকাঠে বসে তাঁর উরুতে রেখে নিজের তীক্ষè নখ দিয়ে হিরণ্যকশিপুর বক্ষ বিদীর্ণ করে তাকে বধ করেন।
ভগবান নৃসিংহদেবের আবির্ভাবের কারণ
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে, সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই। অর্থাৎ, সাধারণত ভগবান এই তিনটি কাজ করতে প্রতি যুগে আর্বিভূত হন। কিন্তু এই নৃসিংহ অবতারে ভগবান শুধু সেই কাজের জন্য আর্বিভূত হননি। মূলত ভক্ত প্রহ্লাদের প্রতি প্রগাঢ় প্রেমবশতই তিনি আর্বিভূত হন। পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে, “মদ্ভক্ত বিনোদার্থ করোতি বিবিধ ক্রিয়া।” শ্রীরামচন্দ্র, শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে আর্বিভাবের কিছু বিশেষ কারণ ছিল। কিন্তু এ নৃসিংহ অবতারের মুখ্য কারণ ছিল — প্রহ্লাদ আহ্লাদ দায়িনে, অর্থাৎ প্রহ্লাদকে আনন্দ দান। এছাড়া হিরণ্যকশিপুকে ব্রহ্মার দেয়া বরের মর্যাদা রক্ষা এবং ভগবান সর্বত্র রয়েছেন — প্রহ্লাদের এই বাক্যের সত্যতা রক্ষার জন্য তিনি আবিভূর্ত হয়েছিলেন।
তাঁর আবির্ভাবের অন্য গৌণ কারণ হচ্ছে, মিথ্যা অহংকারের বশীভূত হয়ে বদ্ধজীব কর্তা ও ভোক্তাভিমানী নরপশু হলে ভগবান সেই পশুকে অর্থাৎ অশুভ বাসনাকে বধ করে ভক্তি মার্গকে সংরক্ষণ করেন। ভক্তিপথের পথিকের হৃদয়ে কাম ক্রোধাদিসহ ছয়রিপুরূপ বাটপাড় উদিত হয়ে প্রাণ নিয়ে কষাকষি করে। ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব স্বীয় ভীষণমূর্তি প্রকট করে ঐসব রিপুকে বিনাশ করে প্রহ্লাদ মহারাজরূপী ভক্তিমূর্তিকে সংরক্ষণ করেন অর্থাৎ অশুভ বাসনাকে বিনাশ করে শুভবাসনাকে সংরক্ষণ করেন। ছয়রিপুরূপ বাটপাড়দের মধ্যে হিরণ্যকশিপু প্রধান। সে মনে করেছিল, “আমি ছাড়া অন্য কোনো ঈশ্বর নেই”। আমরা এরূপ মিথ্যা অহংকারকে বয়ে বেড়াচ্ছি। তাই আমাদের একমাত্র ভরসা ভগবান নৃসিংহদেব। তিনি যেমন হিরণ্যকশিপুর হৃদয় থেকে মিথ্যা অহংকারকে নাশ করে তাকে মুক্ত করেছেন, তেমনই তাঁর আরাধনা করলে তিনি আমাদেরও সকল মিথ্যা অহংকার ও ভক্তিবিঘ্ন নাশ করে আমাদের এই জড় বন্ধন থেকে মুক্ত করবেন।
শ্রীনৃসিংহ তত্ত্ব
নৃসিংহমূর্তিটি শ্রীবিষ্ণুর সর্বোত্তমত্ব ও অচিন্ত্য শক্তির দ্যোতকমূর্তি — প্রাণী জগতের নরের শ্রেষ্ঠতা, পশুজগতের সিংহের সর্বশ্রেষ্ঠত্ব। মানুষের মধ্যে পশুত্ব ও নরত্ব দেখা যায়। মানুষের মধ্যে যখন পশুত্বের আধিক্য থাকে, তখন তাকে মানুষ না বলে অসুর বলা হয়। শ্রীনৃসিংহদেব ভগবান সর্বোত্তম পশু ও নরোত্তমরূপে প্রকটিত হয়ে জীবের পশুত্ব ও নরত্বের বিনাশ সাধন করে থাকেন অর্থাৎ পুরুষোত্তম ভগবানের সেবার ক্ষেত্রে সকল বাধা বিঘ্ন শ্রীনৃসিংহদেব দূর করে দেন। নর ও সিংহ, দুটো প্রাণীর মধ্যে জড় জগতে খাদ্য-খাদক সম্পর্ক বিরাজমান। জড় জগতে এ দুই প্রাণী সাধারণত একত্রে আলিঙ্গনরত অবস্থায় থাকতে পারে না। কিন্তু অত্যন্ত পরস্পরবিরোধী বস্তুর একত্রে সমাবেশ নরসিংহরূপে প্রকটিত হয়েছে। এর দ্বারা শ্রীভগবানের অচিন্ত্যত্ব প্রকাশিত হয়েছে। নৃসিংহদেব স্বয়ং বিষ্ণু, তিনিই রাম, তিনিই কৃষ্ণ।
শ্রীনৃসিংহদেবের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ কেন?
শ্রীমদ্ভাগবতের ১ম স্কন্ধে অনেক বিষয়ের আলোচনা আছে। কিন্তু ৭ম স্কন্ধে কেবল প্রহ্লাদ নৃসিংহদেবের কথাই আলোচনা আছে। আবার শ্রীমন্মহাপ্রভু পুরীতে অবস্থানকালে প্রতিদিন টোটা গোপীনাথ মন্দিরে গদাধর পণ্ডিতের কাছে ধ্রুব আর প্রহ্লাদ চরিত কথা শ্রবণ করতেন। তিনি প্রতিদিন আদি নৃসিংহদেবের স্তব করতেন। মহাপ্রভু বরাহ-বামনাদি অনেক অবতার রূপ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু কেবল নৃসিংহদেব রূপ ছাড়া অন্য কোনো অবতার রূপ দুবার প্রকাশ করেননি। মহাপ্রভুর নাম সংকীর্তনে বাধাসৃষ্টিকারী চাঁদকাজীকে ভগবান নৃসিংরূপে সংশোধন করেছিলেন।
আমরা শ্রীরাধাকৃষ্ণের সেবায় শ্রীমতি তুলসীদেবীর দাসীরূপে আমাদের নিযুক্ত করার পূর্বে প্রতিদিন আমরা নৃসিংহদেবের কাছে প্রার্থনা করি। আসুরিক কামনামুক্ত শুদ্ধ হৃদয় ছাড়া সেই দিব্যযুগলের দাসীরূপে নিযুক্ত হওয়া কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ অজ্ঞানের গভীরতম অন্ধকার থেকে উৎপন্ন জড়-জাগতিক বাসনা থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত মুক্ত না হওয়া যায়. ততক্ষণ পর্যন্ত সে ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত হতে পারে না। তাছাড়া, ভগবান শ্রীনৃসিংহদেব আমাদের কোমল ভক্তিকে সুরক্ষা দান করেন, ঠিক যেমন তিনি প্রহ্লাদের ভক্তিকে দৃঢ়তা প্রদান করেছিলেন। তাই শ্রীল প্রভুপাদ ইস্কনে তাঁর সকল মন্দিরে মঙ্গলারতি ও সন্ধ্যারতির অংশরূপে শ্রীনৃসিংহদেবের বন্দনার প্রবর্তন করেছেন।
সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের সার শ্রীমদ্ভগবদগীতা। শ্রীমদ্ভগবদগীতার সার হচ্ছে ৭-১২ অধ্যায়, আর এই অধ্যায়গুলোর সার হচ্ছে নবম অধ্যায়। ৯ম অধ্যায়ের সার হচ্ছে ৩৪ নং শ্লোক — “মন্মনাভব মদ্ভক্ত...প্রিয়োহসিমে।” সুতরাং সমস্ত বৈদিক শাস্ত্রের সারাতিসার হচ্ছে ‘মন্মনা ভব’। অর্থাৎ শ্রীভগবানের পাদপদ্মে চিত্ত সমর্পণ করা। তাঁকে স্মরণ করা এবং কখনো তাঁকে ভুলে না যাওয়া। ভগবানকে স্মরণ — এই ভক্তি-অঙ্গের আচার্য হলেন শ্রীপ্রহ্লাদ মহারাজ। সুতরাং, তাঁর আরাধ্য নৃসিংহদেবের গুরুত্ব কতখানি তা সহজে অনুমেয়।
স্বয়ং ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীনৃসিংহদেবের উপাসনার প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণকে দেখিয়েছেন (চৈ.চ.অন্ত্য ১৬.৫০-৫১):
বাইশ ‘পাহাচ’—পাছে উপর দক্ষিণ-দিকে।
এক নৃসিংহ-মূর্তি আছেন উঠিতে বামভাগে ।।
প্রতিদিন তাঁরে প্রভু করেন নমস্কার।
নমস্করি’ এই শ্লোক পড়ে বার বার ।।
শ্রীনৃসিংহদেবের কৃপা
শ্রীনৃসিংহদেব ভক্তদের প্রতি খুবই অন্তরঙ্গ। একইসঙ্গে তিনি ভক্তদের রক্ষক এবং অসুরদের বিনাশক। দক্ষিণ ভারতের এক রাজপুত্র ছিলেন শিবের ভক্ত। তার সঙ্গে নৃসিংহদেবের এক ভক্তের বন্ধুত্ব হয়। রাজপুত্র অসুস্থ হলে বন্ধুটি তাকে নৃসিংহপূজা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু রাজপুত্র নৃসিংহপূজা করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং সে তাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তখন শিবলিঙ্গ থেকে শ্রীনৃসিংহদেব প্রকটিত হয়ে রাজপুত্রকে বধ করেন।
শ্রীনৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত মাহাত্ম্য
নৃসিংহদেবের আবির্ভাব হয়েছিল বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে। এটিই নৃসিংহ—চতুর্দশী নামে খ্যাত।
— প্রহ্লাদ মহারাজ পূর্বজন্মে নিজের অজান্তে নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত করেই এত ভক্তিমান হয়েছিলেন।
— সৃষ্টিশক্তি লাভের উদ্দেশ্যে ব্রহ্মা এ ব্রত পালন করেন।
— শিব ত্রিপুরাসুরকে বধের জন্য অত্যন্ত যত্নের সাথে এ ব্রত পালন করেন।
স্বর্গসুখ লাভের উদ্দেশ্যে দেবতারা পূর্বজন্মে এ ব্রত পালন করেন।
— অপুত্রকের পুত্রলাভ হয়, দরিদ্রের ধন লাভ হয়।
তাই পৃথিবীজুড়ে ভগবানের ভক্তরা এই তিথিতে বিশেষভাবে তাঁর আরাধনা করে থাকেন। ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা—আচার্য শ্রীল এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের নির্দেশে ১৯৭০ সালের দিকে আমেরিকার সানফ্রান্সসিকোতে ভক্তরা নৃসিংহ চতুদর্শীর আয়োজন করেছিলেন। নৃসিংহ—চতুর্দশীতে ভক্তরা দিনব্যাপী উপবাস থেকে গোধূলিতে নৃসিংহদেবের অভিষেকের পর ফল—মূল, দুধ, সবজি, শরবত ইত্যাদি) অনুকল্প প্রসাদ গ্রহণ এবং পরদিন সূর্যোদয়ের পর ব্রত সমাপ্ত করেন।
নোংরা স্থানে যেমন প্রিয়জনকে বসানো যায় না, তেমনই আমাদের কলুষিত হৃদয়েও ভগবানকে প্রকট করানো যায় না। তাই হরিনাম সহযোগে শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সাথে এই নৃসিংহ চতুর্দশী ব্রত পালন অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। এর মধ্য দিয়ে আমাদের হৃদয়ে অবস্থিত কলুষতারূপ অসুর বধ হলেই নৃসিংহদেব আমাদের হৃদয়াসনে উপবেশন করবেন।
তাই শ্রীনৃসিংহদেবের কাছে আমাদের প্রার্থনা করা উচিত, হে প্রভু আমাকে কৃপা করে হরিনামের প্রতি আমার যে দুর্দৈব আছে তা দূর করুন এবং আমাকে কৃষ্ণনামে রতি প্রদান করুন। তখন ভগবান নৃসিংহদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন। তখন সমস্ত বিঘ্ন দূর হবে, যেমনটা প্রহ্লাদ মহারাজের হয়েছিল।
প্রহ্লাদ মহারাজ কত বিপদের মধ্য দিয়ে গেছেন, কিন্তু তিনি কখনো ভগবানকে বিস্মৃত হননি। সেজন্য ভগবান তাকে সর্বদা সুরক্ষা প্রদান করেছেন। স্মরণ করতে হয় কীভাবে? শ্রবণ-কীর্তন সঠিকভাবে হলে স্মরণ হবে। যত বেশি শ্রবণ করব, তত বেশি কীর্তন করব, আর যত বেশি কীর্তন করব, তত বেশি স্মরণ হবে।
ইন্দ্রিয়তৃপ্তিমূলক ভোগবাসনা জীবের অসন্তোষ ও দুঃখ সৃষ্টি করে। হিরণ্যকশিপুর আনন্দ উপভোগের সবকিছু ছিল কিন্তু আনন্দ ছিল না। প্রহ্লাদকে ভগবান আনন্দ প্রদান করেছেন, আর প্রহ্লাদ সেই আনন্দকে ধরে রাখার প্রচেষ্টা করেছেন। কৃষ্ণভাবনামৃতের দর্শন অমৃতের মতো, আর সেই দর্শনের অনুশীলন হলো অমৃত রাখার পাত্রের মতো।
ভগবান নৃসিংহদেব সর্বত্র রয়েছেন; আমরা যদি প্রহ্লাদ মহারাজের মতো বিনয়ী ও ভক্তিযুক্ত হই, তাহলে তাঁকে দর্শন করতে পারব। কিন্তু হিরণ্যকশিপুর মতো অহংকারী হলে কী হবে? হিরণ্যকশিপুকে উপর-নিচে, ঘরে-বাইরে কোথাও ধ্বংস করা যায় না। কোনো জাগতিক শিক্ষারূপ অস্ত্রের দ্বারা ধ্বংস করা যায় না; কেবল ভগবানের হস্তক্ষেপের দ্বারা ধ্বংস হয়। সেজন্য আমরা ভগবানের আর্বিভাব তিথিতে প্রার্থনা করব যেন তিনি আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে অবস্থিত হিরণ্যকশিপুকে বধ করে প্রহ্লাদের অবস্থান নিশ্চিত করেন। — হরেকৃষ্ণ