বর্ষ: 2025 | ইস্যু: ৩য় সংখ্যা
শ্রীকৃষ্ণের
লীলাকে দুই ভাগে বিবেচনা করা হয়—নিত্য লীলা ও নৈমিত্তিক লীলা।
নিত্য—লীলা
হলো তাঁর ব্রজধামে (গোলোকে) চিরকালীন অষ্টকালীয় লীলাসমূহ—যেমন
বৃন্দাবনের নিত্য—বিহার, রাধা—কৃষ্ণের
মিলন, গোপ—গোপীদের
সঙ্গে কেলি ইত্যাদি। এই লীলাসমূহ নিত্য ও অপরিবর্তনীয়।
অন্যদিকে, নৈমিত্তিক—লীলা
অর্থাৎ বিশেষ প্রয়োজনবশত গৃহীত লীলা — যেমন অসুরবধ, ইন্দ্রদর্পহরণ, যমলার্জুন উদ্ধার
ইত্যাদি। এই লীলাসমূহ মূলত ভৌম লীলায় (পৃথিবীতে অবতীর্ণ রূপে) প্রকাশিত হয়।
যদিও নৈমিত্তিক—লীলা গোলোকে ভাবরূপে
বিদ্যমান, বাস্তবিক রূপে তা ভৌম—ব্রজধামে দেখা যায়। শ্রীকৃষ্ণের
এসব নৈমিত্তিক লীলা ভক্তের হৃদয়ে গূঢ় অনর্থসমূহকে বিনাশের জন্য প্রাসঙ্গিক ও অপরিহার্য।
তবে শুরুতে এই লীলাগুলো ভক্তদের নিত্যলীলার চেতনার প্রতিকূল বলে মনে হতে পারে। আসলে,
এই নৈমিত্তিক—লীলা
সাধকের হৃদয়ে লুক্কায়িত অনর্থসমূহ বিনাশের অনুপম উপায়। তাই, সাধকের উচিত — এই লীলাগুলোতে
মনোযোগ দিয়ে নিজ হৃদয়ের অনর্থ বিনাশের জন্য কৃষ্ণের কৃপা প্রার্থনা করা।
এই প্রবন্ধে শ্রীকৃষ্ণের নৈমিত্তিক লীলাসমূহের মাধ্যমে
অন্তরের অনর্থসমূহ কীভাবে বিনাশ হয়, তার এক গূঢ় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা
হয়েছে। যদিও শিরোনামে ‘অসুরবধ’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে,
প্রবন্ধে শ্রীকৃষ্ণের সেইসব লীলাও অন্তভুর্ক্ত করা হয়েছে যেখানে তিনি কোনো দানব বা
অসুরকে বধ না করেও ভক্তদের অন্তরায়স্বরূপ অনর্থসমূহ দূর করেন — যেমন যমলার্জুন উদ্ধারের
মাধ্যমে অহংকার বিনাশ, ইন্দ্রদর্প হরণ, ব্রহ্মবিমোহন প্রভৃতি। অতএব, ‘অসুরবধ’
শব্দটি এখানে প্রতীকাত্মক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে-যে লীলাগুলোর মাধ্যমে অনর্থবিনাশ হয়,
তা সে অসুরবধের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো উপায়ে।
শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর তাঁর ‘শ্রীচৈতন্যশিক্ষামৃত’
গ্রন্থে (৬.৬) গম্ভীর ভাষায় ভক্তচিত্তের অনর্থসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং সেগুলোর সঙ্গে
কৃষ্ণলীলার সংশ্লিষ্টতা নির্দেশ করেছেন। মূল লেখাটি গভীর হলেও বর্তমান পাঠকদের জন্য
তা অনেকাংশে দুর্বোধ্য হতে পারে। সেই কারণেই এই প্রবন্ধে লীলাগুলোর সংক্ষিপ্ত সারাংশ
যুক্ত করে, ঠাকুরের মূল বক্তব্যের ভাব ও গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রেখে বিষয়বস্তুকে প্রাঞ্জলভাবে
উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে পাঠকগণ কৃষ্ণলীলার অন্তর্নিহিত তাত্ত্বিক তাৎপর্য আরো স্পষ্টভাবে
অনুধাবন করতে পারবেন।
নিম্নে শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীবলরামের নৈমিত্তিক লীলাগুলোর
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনর্থসমূহ উপস্থাপন করা হলো:
শ্রীকৃষ্ণের
নৈমিত্তিক লীলার অনর্থব্যাখ্যা
১. পুতনাবধ:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন ছোট্ট শিশু, তখন কংসের পাঠানো রাক্ষসী পুতনা মাতৃদুগ্ধের ছলে বিষ
দিয়ে কৃষ্ণকে হত্যা করতে আসে। সে সুন্দর রমণীর বেশে এসে কপটতা করেছিল। শ্রীকৃষ্ণ তার
প্রাণবায়ু টেনে নিয়ে তাঁকে মুক্তি প্রদান করেন।
অনর্থ:
ভুক্তি বা মুক্তির মোহে মোহিত কপট গুরু ও মিথ্যা সাধুদের প্রতীক। শ্রীকৃষ্ণ বাল্যাবস্থায়
এই ছলনাময়ীর বধ করেন নব উদিত ভক্তিভাব রক্ষার জন্য।
২. শকটভঞ্জন:
শ্রীকৃষ্ণ যখন দোলায় শয়ন করছিলেন, তখন একটি ভারী শকট (গরুরগাড়ি) তাঁর উপর পড়ে যাওয়ার
উপক্রম হয়। তিনি পা দিয়ে আঘাত করে সেই শকট ভেঙে দেন।
অনর্থ:
পূর্ব সংস্কার ও আধুনিক প্রভাব থেকে সৃষ্ট জড়তা, আত্মগর্ব ও অহংকারের প্রতীক — যা
সাধকের হৃদয়ে বলিষ্ঠ বাধা সৃষ্টি করে।
৩. তৃণাবর্তবধ:
তীব্র ঘূর্ণিবায়ুরূপে তৃণাবর্ত রাক্ষস কৃষ্ণকে আকাশে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
বালক কৃষ্ণ তাকে আকাশেই হত্যা করেন।
অনর্থ:
এটি বাকপাণ্ডিত্য, কুতর্ক, শুষ্ক যুক্তি এবং অহংকারমূলক জ্ঞানচর্চার প্রতীক। শ্রীকৃষ্ণ
দয়া করে এই কণ্টক অপসারণ করেন।
৪. যমলার্জুনভঙ্গ:
কুবেরের দুই পুত্র— নলকুবর ও মণিগ্রীব গর্বজনিত
অপরাধের ফলে নারদমুনির দ্বারা অভিশপ্ত হয়ে দুটি যমজ অর্জুন বৃক্ষে আবদ্ধ ছিলেন। কৃষ্ণ
দড়ি দিয়ে তাঁর কোমরে বাঁধা উদুখল টানতে টানতে বৃক্ষ দুটোর মাঝখানে প্রবেশ করেন এবং
সেগুলো উপড়ে দেন। এভাবে কৃষ্ণ তাদের মুক্ত করেন।
অনর্থ:
ঐশ্বর্যগর্ব ও উচ্চবংশীয় গৌরব থেকে উদ্ভূত ভোগে আসক্তি, স্ত্রীর প্রতি আসক্তি, মদ্যসেবন,
নির্মমতা, লজ্জাহীনতা প্রভৃতি দোষ দূরীকরণ।
৫. বৎসাসুরবধ:
বাছুরের ছদ্মবেশী এক রাক্ষস গোপবালকদের মাঝে ঢুকে পড়ে। কৃষ্ণ তার লেজ ধরে গাছে ছুড়ে
ফেলে তাকে হত্যা করেন।
অনর্থ:
শিশুসুলভ লোভ ও অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে দুষ্কর্মে জড়িয়ে পড়া — এই ধরনের অনর্থ
বিনাশ করেন শ্রীকৃষ্ণ।
৬. বকাসুরবধ:
একটি বিশাল বক কৃষ্ণকে গিলতে চায়। কৃষ্ণ তাকে ঠোঁট চিরে হত্যা করেন।
অনর্থ:
ধূর্ততা, শঠতা ও কুটিনাটির প্রতীক। শুদ্ধভক্তি লাভের প্রধান প্রতিবন্ধক।
৭. অঘাসুরবধ:
অঘাসুর নামে এক দৈত্য অজগররূপে গোপবালকদের গ্রাস করতে চায়। কৃষ্ণ তার শরীর চিড়ে সকলকে
রক্ষা করেন।
অনর্থ:
পরের প্রতি হিংসা, বিদ্বেষ ও পরদ্রোহ প্রবণতা — যা নামাপরাধের
মূল কারণ।
৮. ব্রহ্মমোহন:
ব্রহ্মা কৃষ্ণের সখাদের সঙ্গে তাঁর মাধুর্যময় লীলা দেখে তাঁর ভগবত্তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য
গোপবালকদের চুরি করেন। পরে কৃষ্ণ নিজে সেইসব বালকদের রূপ ধারণ করে তাঁর ঐশ্বর্য প্রকাশ
করেন।
অনর্থ:
জ্ঞান, কর্ম, ভক্তি ইত্যাদি চর্চায় সন্দেহ পোষণ করা এবং ভগবানের ঐশ্বর্যভাবের দ্বারা
বিমোহিত হয়ে মাধুর্যের অবমাননা করার প্রতীক।
৯. ধেনুকাসুরবধ:
ধেনুক নামে এক গাধারূপী রাক্ষস তালবনে অন্যদের প্রবেশে বাধা দিত। বলরাম তাকে হত্যা
করেন।
অনর্থ:
মূঢ়তা, স্থূলবুদ্ধি ও সৎসঙ্গের অভাবজনিত তত্ত্বজ্ঞানহীনতার প্রতীক।
১০. কালীয়দমন:
কালীয় নামে বিষাক্ত নাগ যমুনায় বাস করত। কৃষ্ণ তার উপর নৃত্য করে তাকে পরাভূত ও স্থানান্তর
করেন।
অনর্থ:
অহংকার, পরের প্রতি কুটিলতা ও নির্দয়তার প্রতীক। দয়া—শূন্য,
হিংসার মনোভাব দূরীকরণ।
১১. দাবানল নাশ:
একবার বৃন্দাবনে দাবানল দেখা দিলে কৃষ্ণ তা পান করে সকলকে রক্ষা করেন।
অনর্থ:
সম্প্রদায়বিদ্বেষ, মতানৈক্য, পরস্পর দ্বন্দ্ব, যা ভক্তি অগ্রগতির পথে অগ্নিকুণ্ডের
মতো বিপজ্জনক।
১২. প্রলম্বাসুরবধ:
প্রলম্ব নামে এক রাক্ষস গোপবালকদের সঙ্গে খেলা করে বলরামের পেছনে উঠে পালাতে চায়।
বলরাম তার মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন।
অনর্থ:
ভোগপ্রবণতা, খ্যাতির লোভ, নারীসঙ্গের মোহ ও প্রতিষ্ঠালিপ্সা —
এসব প্রবল অনর্থের প্রতীক।
১৩. দ্বিতীয় দাবানলপান:
আবার একবার গোপগণ ও গাভীগণ দাবানলে আক্রান্ত হলে কৃষ্ণ তা পান করে তাদের রক্ষা করেন।
অনর্থ:
নাস্তিক্য ও ধর্মবিদ্বেষ দ্বারা ভক্তি ও ধর্মের ওপর আক্রমণ; এইসব থেকে রক্ষা।
১৪. যজ্ঞিক ব্রাহ্মণ দ্বারা
অপমান: গোপগণ কৃষ্ণ—বলরামের জন্য খাবার নিতে
গিয়ে যজমান ব্রাহ্মণদের ঔদাসীন্যে প্রত্যাখ্যাত হন। পরবর্তীতে তাঁদের পত্নীরা খাবার
এনে কৃষ্ণ—বলামের
সেবা করে তাঁদের সন্তোষ বিধান করেন।
অনর্থ:
বর্ণাশ্রমজনিত অহংকার, জন্মগর্ব ও আচারসর্বস্ব ধর্মচর্চা কৃষ্ণের প্রতি ঔদাসীন্য তৈরি
করে, যা কৃষ্ণ—ভক্তির
অন্তরায়।
১৫. ইন্দ্রপূজা বারণ:
ইন্দ্রপূজা বর্জন করে গোপগণ গোবর্ধন পূজা করেন। ইন্দ্র রুষ্ট হয়ে প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ
করলে কৃষ্ণ গোবর্ধন ধরে সকলকে রক্ষা করেন।
অনর্থ: “আমি
শ্রেষ্ঠ”
এই অহংকার, অহংগ্রহোপাসনা দূরীকরণ।
১৬. বরুণ—বন্ধন
হতে নন্দোদ্ধার: একবার নন্দ মহারাজ বরুণের লোকালয়ে গিয়ে
বন্দী হন। কৃষ্ণ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।
অনর্থ:
মদ, গাজা ইত্যাদি নেশাপানে ভজনানন্দ বৃদ্ধি হয় — এই ভ্রান্ত ধারণার
প্রতিবাদ।
১৭. সর্প হতে নন্দমোচন:
নন্দ মহারাজকে এক সর্প গ্রাস করতে চায়। কৃষ্ণ এসে সর্পকে স্পর্শ করলে সে পূর্বজন্মস্মরণে
মুক্তি পায়।
অনর্থ:
মায়াবাদ, নিরাকারবাদ ইত্যাদির প্রভাবে ভক্তিতত্ত্ব গ্রাসিত হয়; সেখান থেকে উদ্ধারের
বার্তা এটি।
১৮. শঙ্খচূড়বধ:
একবার গোপীগণকে ভয় দেখাতে এলে শঙ্খচূড় নামক রাক্ষসকে কৃষ্ণ হত্যা করেন এবং তার কণ্ঠের
রত্ন মণি সংগ্রহ করেন।
অনর্থ:
স্ত্রীর প্রতি আসক্তি ও প্রতিষ্ঠালিপ্সার অনর্থ।
১৯. অরিষ্টাসুরবধ:
বিশাল বৃষরূপে অরিষ্টাসুর বৃন্দাবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে কৃষ্ণ তাকে হত্যা করেন।
অনর্থ:
ছলনাপূর্ণ ধর্ম বা ধার্মিকতার গৌরবে শুদ্ধভক্তিকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতা।
২০. কেশীবধ:
কেশী নামে এক অশ্বরূপী অসুর বৃন্দাবনে হানা দিলে কৃষ্ণ তার মুখে হাত ঢুকিয়ে তাকে বধ
করেন।
অনর্থ:
“আমি বড় ভক্ত ও আচার্য—এই অহংকার ও পার্থিব মর্যাদার
আসক্তি।
২১. ব্যোমাসুরবধ:
এক চোররূপী রাক্ষস গোপবালকদের অপহরণ করতে গেলে কৃষ্ণ তাকে হত্যা করেন।
অনর্থ:
গুপ্ত অপরাধ, চৌর্য ও কপটভক্তদের সঙ্গ — যা সাধনজীবনের মারাত্মক
প্রতিবন্ধক।
ব্রজভজনের
প্রকৃত উপায় ও রহস্য
শ্রীকৃষ্ণসংহিতার
অষ্টম অধ্যায়ের ১৩ শ্লোক হতে অধ্যায় শেষ পর্যন্ত উল্লিখিত ১৮টি অনর্থ এবং উপরিউক্ত
যমলাজুর্নভঙ্গ ও যাজ্ঞিকবিপ্রগণের মিথ্যা অহংকার — এই দুইটি লীলা যোগ করে মোট ২০টি
প্রধান অনর্থের কথা বলা হয়েছে, যা ব্রজভজনের গুরুতর প্রতিকূল। এগুলো বর্জনের জন্যই
প্রথমে হরিনাম। এছাড়া আরো বহু অসুরবধ লীলা রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন অনর্থনাশের প্রতীক।
এখানে কেবল শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের গ্রন্ধে উদ্ধৃত লীলাগুলোই উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাধকের উচিত হরিনাম জপকালে এসব অনর্থসমূহ পরিত্যাগের
জন্য কাঁদতে কাঁদতে শ্রীকৃষ্ণের শরণাগতি গ্রহণ করা। তিনি করুণাবশত নিজে এসব অনর্থ দূর
করে দেন। কিছু কিছু অনর্থ — যেমন ধেনুকাসুরের মতো কঠোর জড়বুদ্ধি বা প্রলম্বাসুরের
মতো নারীসঙ্গ, প্রতিষ্ঠাশা — এসব শ্রীবলদেব
কর্তৃক নাশ হয়। এই অনর্থ সাধককে নিজের আত্মনিরীক্ষা ও যথাযথ প্রয়াসের মাধ্যমে দূর
করতে হয়।
এভাবে, নামস্বরূপ, স্বস্বরূপ ও উপাস্যস্বরূপ সম্পর্কে
অবিদ্যা—এই
অনর্থসমূহ যত্নের সঙ্গে দূর করতে হবে। নারীসঙ্গ, অর্থলোভ, প্রতিষ্ঠালিপ্সা ইত্যাদি
প্রবল প্রবৃত্তি নামভজনের কঠিনতম প্রতিবন্ধক। এগুলো পরিহারে নিজ সাধনার সঙ্গে দীনতা
বৃদ্ধি করলে কৃষ্ণকৃপা অচিরেই লাভ হয়। তখন শ্রীবলদেবভাব হৃদয়ে উদিত হয়ে এই অনর্থসমূহকে
এক নিমেষে ধ্বংস করে দেন। তৎপরবর্তীকালে ভজনের অনুশীলনে বিশেষ অগ্রগতি ঘটে।
এই সমগ্র প্রক্রিয়া গভীর ও সূক্ষ্ম। তাই সদগুরুর
নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে যথাযথভাবে শিক্ষা গ্রহণ করা—সকল ব্রজভক্তির মৌলিক
ও অপরিহার্য ভিত্তি।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলা কেবল কাহিনি নয়, প্রতিটি
লীলায় নিহিত আছে গভীর তাত্ত্বিক ও আত্মশুদ্ধির বার্তা। শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর দেখিয়েছেন,
এই লীলাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে ভক্তের হৃদয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন অনর্থ ও তাদের বিনাশের
পথ। একদিকে যেমন এই লীলাগুলো ভক্তিতে প্রেরণা জোগায়, অন্যদিকে তা আমাদের আত্মসমীক্ষার
দিকেও আহ্বান জানায়। তাই কৃষ্ণলীলার স্মরণ ও অনুশীলন কেবল শ্রবণীয় বা কাহিনিমূলক
নয়, এটি ভক্তির পথে চলার এক অতীব গম্ভীর, যথার্থ ও অপরিহার্য সহচর। ভক্তের কর্তব্য
— এই লীলার অন্তর্নিহিত শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে, প্রতিদিন ভগবানের কাছে অনর্থনাশের
জন্য কাঁদা এবং শুদ্ধভক্তির পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হওয়া। — হরেকৃষ্ণ
(শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর প্রণীত বিশ্লেষণের সংযোজিত ও প্রাঞ্জল উপস্থাপনা)