তেলিপাড়া
গ্রামে দুই বন্ধু বাস করত। রাম দাস ও শ্যাম দাস। রাম দাস তার বন্ধুকে বলল, ভাই, কৃষ্ণভজন
করাই মানুষের ধর্ম। তাতে জীবন মঙ্গলময় হয়। তাই বাবা আমাকে বলেছেন রোজ কৃষ্ণনাম জপ করতে।
শ্যাম
দাস বলল, এ জীবনে কর্মই বড়। ধর্ম, শাস্ত্র, ভগবান-এসব আমি মানি না। এতসব নিয়ে কাজ কী?
রাম
দাস বলল, আহা! তুই কি মনে করিস যে, যারা ধর্মশাস্ত্র ও ভগবান মানে তারা বুঝি কোনো কর্ম
করছে না? তারা তো আমাদের চেয়ে আরো বেশি কর্ম করছে। তা কি দেখেছিস?
শ্যাম
দাস: তুই বল তো, ভগবান বলে কিছু আছে?
রাম
দাস: যদি না থাকত, তবে ভগবান কথাটি এলো কি করে?
শ্যাম
দাস: সব কল্পনা। বুঝলে, সব কল্পনা। কেউ কি কোনোদিন ভগবান দেখেছে?
রাম
দাস: তুই দেখিসনি বলে অন্য লোকে দেখেনি, এরকম কী করে বলছিস?
এরকম
তর্কের মাঝে শ্যাম দাস অজান্তে একটা বোলতার উপর পা ফেলে। অমনি বোলতাটি হুল ফুটিয়ে দেয়।
অস্থির হয়ে শ্যামদাস লাফিয়ে ওঠে।
কিন্তু
সে বোলতাকে দেখতে পেল না। যন্ত্রণায় চেঁচিয়ে উঠে বলে, ওরে! কী একটা কাঁটা মেরেছে রে।
হা রে মরে গেলাম।
রাম
দাস বলে, বোলতা! রাম দাস দেখল শ্যাম দাসের পায়ের আঙ্গুলে বোলতার হুল কাঁটাটি লেগে রয়েছে।
সে কাঁটাটি তুলে চুন লাগিয়ে দিল।
শ্যাম
দাস: ওঃ! বোলতাটাকে একবার দেখতে পেলে তার বাস সহ বংশ নিপাত করে দিতাম ।
রাম
দাস: আহা! বোলতার বংশ নিপাত করবি কেন? একটি ছোট বোলতাকে দেখলেই তুই তাকে সহ তার বংশ
নিপাত করার সংকল্প করছিস। তাহলে ভগবানকে দেখলে বুঝি সারা ব্রহ্মা-কে নষ্ট করার জন্য
সংকল্প করতিস। অতএব তুই অনেক কিছু দেখিস না, সেটাই মঙ্গল। শ্যাম দাস রেগে গিয়ে বলে,
সব কি তুই দেখেছিস?
রাম
দাস: বোলতাটি তোকে হুল ফুটিয়ে দিল, তুই দুই চোখ থাকতে তাকে দেখতেই পেলি না। আর ভগবানকে
দেখবি কী? তাতে আর কতগুলো তোর চোখ লাগবে, তা
কল্পনা করেছিস?
শ্যাম
দাস: পরে তোর সঙ্গে কথা বলব। এখন বাড়ি যাই।
ব্যথা
পেয়ে শ্যাম দাস ওঃ আঃ করতে করতে বাড়ি ফিরে গেল।